ইন্টারনেট সেবার দাম বাড়ার কারণে অনেকেই বাড়িতে নেটওয়ার্ক সেটআপের ক্ষেত্রে খরচ কমানোর উপায় খোঁজেন। এর মধ্যে বিকল্প এক উপায় হলো ব্যবহৃত রাউটার কেনা। ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, গামট্রিয়ের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সাইটে প্রায়ই সস্তা দামে ব্যবহৃত রাউটার পাওয়া যায়। কিন্তু এটি ব্যবহার করা নিরাপদ কি না, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন থাকে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলেন, ব্যবহৃত রাউটার সাধারণত নিরাপদ হলেও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। মূল ঝুঁকি আসে পুরনো হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার থেকে। একটি পুরনো রাউটার সর্বশেষ সিকিউরিটি আপডেট সমর্থন নাও করতে পারে, যা নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায়। এটি শুধু ব্যবহৃত রাউটারের সমস্যা নয়; যেকোনো রাউটার, যা কয়েক বছর ধরে ব্যবহার করা হয়েছে এবং আপডেট হয়নি, সেসব রাউটারেও একই ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

‘উইচ?’ সংস্থার একটি গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ রাউটার প্রায়ই আপডেট করা হয় না, তাই সব ব্যবহারকারীর জন্য ফার্মওয়্যার আপডেট করা গুরুত্বপূর্ণ।

যদি আপনি ব্যবহৃত রাউটার কিনতে চান, তাহলে নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অনুসরণ করা উচিত। প্রথমত, রাউটারটি নেটওয়ার্কে সংযোগ করার আগে একটি ফ্যাক্টরি রিসেট করে নিতে হবে। অনেক ব্যবহৃত রাউটার আগের ব্যবহারকারীর পূর্বের তথ্য বা সেটিংস না মুছে বিক্রি করেন, তাই সম্পূর্ণ রিসেট করে রাখা জরুরি। বেশিরভাগ রাউটারে একটি রিসেট বাটন বা ছোট হোল থাকে যা ব্যবহার করে চালু অবস্থায় রাউটার রিসেট করা যায়।

দ্বিতীয়ত, রাউটারের সর্বশেষ ফার্মওয়্যার আপডেট চেক করতে হবে এবং প্রয়োজনে আপডেট করতে হবে। এটি নিরাপত্তা দুর্বলতা কমাতে সাহায্য করে। সাধারণত রাউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নতুন ফার্মওয়্যার বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

সবশেষে রাউটারটি কোথা থেকে কিনছেন তা বিবেচনা করুন। পরিচিত ব্যক্তি বা বিশ্বাসযোগ্য রিটেইলার থেকে কেনা সাধারণত নিরাপদ। রিফারবিশড বা পুনঃনির্মিত রাউটারে কাস্টম ফার্মওয়্যার থাকতে পারে, যা সব সময় ক্ষতিকর নয়, তবে নিরাপত্তার কারণে অফিসিয়াল ফার্মওয়্যারে রূপান্তর করা উত্তম।

সারসংক্ষেপে ব্যবহৃত রাউটার কেনা অর্থ সাশ্রয়ী হতে পারে, তবে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করলে নেটওয়ার্ক নিরাপদ রাখা সম্ভব। রাউটার রিসেট, ফার্মওয়্যার আপডেট এবং বিশ্বাসযোগ্য উৎস থেকে কেনা নিশ্চিত করা নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

—স্ল্যাশগিয়ার অবলম্বনে