কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় নতুন ফিচার চালুর ঘোষণা দিয়েছে আলোচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক। নতুন ‘টাইম অ্যাওয়ে’ ফিচারের সাহায্যে অভিভাবকরা শিশুসন্তানের টিকটক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। খবর টেকক্রাঞ্চ।

টিকটক কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি জানিয়েছে, নতুন ফ্যামিলি পেয়ারিং ফিচারের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীরা কাকে বা তাকে কে অনুসরণ করছে সে তালিকা দেখতে পারবেন অভিভাবকরা। এছাড়া অ্যাপের তরুণ ব্যবহারকারীরা কাকে ব্লক করছে তাও দেখা যাবে। সেই সঙ্গে এ ফিচারের মাধ্যমে টিকটক ব্যবহারকারীদের রাতে তাদের ফোন দূরে রেখে ঘুমাতে উৎসাহিত করবে। এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ও সুস্থ ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা।

অভিভাবকরা পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়, রাতে বা সপ্তাহান্তে ছুটির সময় অ্যাপে কিশোর-কিশোরীদের প্রবেশাধিকার ব্লক করতে পারবেন। কখন ব্লক করতে চান তার জন্য একটি পুনরাবৃত্ত সময়সূচি সেট করতেও ফিচারটি সাহায্য করবে। নতুন ফিচারে অপ্রীতিকর বা অনুপযুক্ত কনটেন্ট থেকে রক্ষা পেতে থাকবে উন্নত ফিল্টারিং সিস্টেম। আগামীতে শিশুরা টিকটকের নিয়মের বিরুদ্ধে যায় এমন ভিডিও রিপোর্ট করার মাধ্যমে তাদের অভিভাবককে সতর্ক করতে পারবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফ্যামিলি পেয়ারিং ব্যবহার না করলেও অভিভাবককে সতর্ক করার সুযোগ পাওয়া যাবে।

এছাড়া টিকটক তাদের বন্ধ করে দেয়া এসটিইএম ফিডটি কিশোর-কিশোরীদের জন্য পুনরায় চালু করতে চলেছে। পদক্ষেপটি তাদের মধ্যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) বিষয়ে আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে নেয়া হয়।

টিকটক আরো জানিয়েছে, ‘উইন্ড-ডাউন’ নামের ফিচার রাতের বেলায় ফোন ব্যবহার কমাতে সাহায্য করবে। টিকটক বিশ্বাস করে এটি কিশোর-কিশোরীদের ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। ১৬ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু রাত ১০টার পরে টিকটক ব্যবহার করলে তাদের ফর ইউ ফিডে পূর্ণ-স্ত্রিনের বার্তা দেখানো হবে, যেখানে থাকবে শান্ত সুরের সংগীত। বার্তাটি ব্যবহারকারীকে সময়ের প্রতি সচেতন হতে এবং ধীরে ধীরে বিশ্রামের প্রস্তুতি নিতে উৎসাহিত করবে। যদি ব্যবহারকারী প্রথম বার্তাটি উপেক্ষা করে, তবে টিকটক আরো একটি সতর্কবার্তা দেখাবে। এটি ব্যবহারকারীকে আরো সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে।

গত কয়েক বছরে প্লাটফর্মে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একের পর এক নতুন ফিচার চালু করেছে টিকটক। সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে এসব উদ্যোগ নেয় হয়।