ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচনের আগেই মিথ্যা ও ভুল তথ্য ঠেকাতে বিশেষ টিম গঠন করছে মেটা। জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়া মিথ্যা ভিডিও, ছবি ও অডিও দিয়ে যেন ভোটারদের ভুল দিকে ধাবিত করা না হয়, তার জন্যই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি। খবর বিবিসি।

এর আগে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লেভারলি দাবি করেছিলেন, কিছু মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে গুজব তৈরি করে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করছে। তার ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় এমন ঘোষণা এল শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের থেকে। তবে এ পরিকল্পনা কার্যকর হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মেটা অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভুল তথ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভোট অনুষ্ঠিত হবে ৬-৯ জানুয়ারি। গত ফেব্রুয়ারিতে আরেক প্রতিষ্ঠান টিকটক ঘোষণা দেয়, ইইউর নির্বাচনের আগে প্রতিটি সদস্য দেশেই স্থানীয় ভাষায় সত্যিকার তথ্য সরবরাহে নির্বাচন কেন্দ্র খোলা হবে। মেটার ইইউ বিষয়ক প্রধান মার্কো পানকিনি সম্প্রতি বলেন, ‘ইইউর বিশেষায়িত নির্বাচন কেন্দ্রগুলো সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ২০১৬ সালে আমরা ২ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছি কেবল নিরাপত্তাকে চার গুণ বাড়ানোর জন্য। বিশ্বব্যাপী আমাদের ৪০ হাজার মানুষ কাজটিতে নিয়োজিত। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেড মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার কনটেন্ট রিভিউয়ার আছেন। তারা ইইউর ২৪টিসহ মোট ৭০টি ভাষায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’

তবে ঘোষণায় সীমাবদ্ধতা আছে বলে দাবি করেন গবেষক দিপক পদ্মনাভান। তিনি মনে করেন, অধিকাংশ পরিকল্পনাই দিনশেষে বাস্তবায়ন হবে না। তিনি বলেন, ‘‌কীভাবে একটা প্রযুক্তি কোনো কিছুকে সত্য ও মিথ্যা বলে সাব্যস্ত করবে? কোনো কিছুকে সত্য বা মিথ্যা বলার আগে প্রাসঙ্গিক অনেক কিছু দেখার আছে। মেটা দিন শেষে কতটা সফল, সেখানে সন্দেহ থেকেই যায়। অন্তত পক্ষে স্বীকার করে নিতে হবে সীমাবদ্ধতার কথা। বর্তমানে কেবল ইউরোপীয় অঞ্চলেই ২৬টি ফ্যাক্ট চেকিং অর্গানাইজেশনের সঙ্গে কাজ করছে মেটা। শিগগিরই বুলগেরিয়া, ফ্রান্স ও স্লোভাকিয়ায় আরো অংশীদার যুক্ত করা হবে। আর সংস্থাগুলোর কাজই থাকবে কেবল মিথ্যা তথ্য ও গুজব শনাক্ত করা, ভুল তথ্য প্রচারকে বন্ধ করা।’