দেশে নারীদের মধ্যে মোবাইলের ব্যবহার বিস্তৃত করতে আরো উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশের টেলিকম খাতের তিন অপারেটর। তারা বলছেন, দেশের টেলিকম অপারেটররা নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করছে। নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় নারীদের সংযুক্ত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। নারীদের ডিজিটাল বিশ্বে সম্পৃক্ত করা, উদ্যোক্তা তৈরীর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) স্পেনের বার্সেলোনায় মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে (এমডব্লিউসি) দেশের টেলিকম অপারেটরদের শীর্ষ নির্বাহী ও সংশ্লিষ্টরা এসব কথা বলেন। চার দিনব্যাপী এমডব্লিউসি সম্মেলন ২৬ ফেব্রয়ারি শুরু হয়। বিশ্বের প্রযুক্তি খাতের প্রস্তুতকারক, সরবরাহকারী, নেতা এবং নীতিনির্ধারকদের সম্মিলনে এ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ থেকে টেলিকম শিল্প, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, মোবাইল ফোন উৎপাদনকারীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের সিইও ও অ্যামটবের প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আজমান বলেন, বর্তমানে গ্রামীণফোনের মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ২৯ শতাংশ নারী। ২০২৬ সালের মধ্যে আমরা তা বাড়িয়ে ৩২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা দু’টি উদ্যোগ নিয়েছি। তার মধ্যে একটি হচ্ছে আমরা ২০ লাখ মানুষকে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে চাই। যার মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ লক্ষ্যমাত্রা ৬০ শতাংশ। দ্বিতীয়ত, ১ কোটি শিক্ষক ও শিশুকে অনলাইনে নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করতে চাই। যার মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৫৮ শতাংশ কন্যাসন্তান অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। নারী ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধির লক্ষ্য গ্রামীণফোন এ দুই অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছে।

রবির চিফ কমার্শিয়াল অফিসার শিহাব আহমেদ বলেন, ২০১৬ সাল থেকে রবি জিএসএমএ প্রযুক্তির নিয়ে কাজ করছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ডিজিটাল বিশ্বে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করা। বর্তমানে নারী মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ২৬ থেকে ২৭ শতাংশ। আমরা আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে তা ৩০ থেকে ৩২ শতাংশের উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমাদের মূল উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ইজি আপা’ অ্যাপ। একটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে, শক্ত বাজার ব্যবস্থা তৈরি করতে করতে সক্ষম করে। আমরা প্রজেক্ট খাদিজা শুরু করেছি।

বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তৈমুর রহমান বলেন, আমাদের প্রায় ২৬ শতাংশ নারী মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, এবং আমাদের প্রতিশ্রুতি আগামী দুই বছরের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশে উন্নীত করা। বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ নারী, আমাদের বন্টন ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে, আমরা আরো বেশি নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছি। এটি সহজতর করার জন্য, আমরা ‘মাই বিএল অ্যাপ’ তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছি, যেখানে চ্যাটজিপিটিও একটি ভূমিকা পালন করে, যাতে মহিলারা সহজেই এই অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যবহার করতে পারে। এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য আমরা আমাদের পুরো নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছি।