চীনের কাছে উন্নত চিপ তৈরির যন্ত্র বিক্রিতে আরো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি করছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা। দেশটির একটি দ্বিপক্ষীয় তদন্তে দেখা গেছে, চীনা চিপ প্রস্তুতকারকরা গত বছর প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্র কিনেছে। এসব প্রযুক্তি চীনের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে শক্তিশালী করতে ব্যবহার হতে পারে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনপ্রণেতারা। খবর রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের নির্দিষ্ট কোম্পানির বদলে সব চীনা চিপ প্রস্তুতকারককে লক্ষ্য করে সরঞ্জাম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত। গত বছর চীনা ফার্মগুলো আইন মেনে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জাম সরবরাহকারী থেকে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের সরঞ্জাম কিনেছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৬৬ শতাংশ বেশি।

র‍য়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতারা। চীনের মাইক্রোচিপ উৎপাদন সীমিত করতে চেষ্টা করছে। এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সামরিক শক্তি আধুনিকীকরণের মতো ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। দুই অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একই সময়ে অন্য দেশগুলোর কাছে উন্নত প্রযুক্তি বিক্রির জন্য প্রতিযোগিতা করছে।

টোকিও ইলেকট্রনের যুক্তরাষ্ট্র ইউনিটের সভাপতি মার্ক ডোহার্টি বলেন, ‘চলতি বছর চীনে চিপ তৈরির সরঞ্জামের বিক্রি কিছুটা কমতে শুরু করেছে, যার একটি কারণ হলো নতুন নিয়ম ও বিধিনিষেধ।’

চিপ তৈরির সরঞ্জামের সম্প্রতি বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছে সুয়ে-শিউর টেকনোলজি, শেনজেন পেংশিনসু টেকনোলজি এবং সি-এন (চিংদাও) ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটস নামে চীনের তিনটি কোম্পানি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস কমিটি দেশটির বাণিজ্য বিভাগকে জানায়, তিনটি কোম্পানি হুয়াওয়ের জন্য কাজ করা একটি গোপন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এরপর ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে সরঞ্জাম রফতানি নিষিদ্ধ করে।