ফাইভজি নেটওয়ার্কে প্রবেশের দেড় বছর পার করেছে ভারত। তবে এখনো দেশটির সব অংশ নেটওয়ার্কের আওতায় আসেনি। এরই মধ্যে টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে নতুন বিরোধ তৈরি করেছে সিক্সজি। দুই পক্ষই দেশটির সরকারের কাছ থেকে নতুন ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড বরাদ্দ নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে ভারত সরকার এখনই এ বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা।

ইটি টেলিকমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ভারতে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক পরিষেবা কোম্পানিগুলো মোবাইলের জন্য সিক্স গিগাহার্টজ তরঙ্গ শনাক্ত বা ফাইভজির পরিধি বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়াই-ফাই পরিষেবা প্রদানে ব্যান্ডের লাইসেন্স পাওয়ার আবেদন করছে।

গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশনস অ্যাসোসিয়েশন (জিএসএমএ) জানায়, বাণিজ্যিক পর্যায়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিষেবার জন্য ভারতের উচিত সিক্স গিগাহার্টজ ব্যান্ডের এয়ারওয়েভগুলোকে স্বীকৃতি দেয়া। এছাড়া এটিকে ন্যাশনাল ফ্রিকোয়েন্সি অ্যালোকেশন প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এতে ফাইভজি নেটওয়ার্কের যে চাহিদা সেটি পূরণ করা সম্ভব হবে।

সেলুলার অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়াও (সিওএআই) ভারতে ফাইভজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সিক্সজি মিড ব্যান্ড তরঙ্গ চালুর বিষয়ে কথা বলছে। 

অন্যদিকে আইটিইউ-এপিটি ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া (আইএএফআই) এবং ব্রডব্যান্ড ইন্ডিয়া ফোরামসহ (বিআইএফ) বিভিন্ন সংস্থা ওয়্যারলেস লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্কের জন্য সিক্স গিগাহার্জ ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জের লাইসেন্স ছাড় চেয়েছে। তাদের যুক্তি ব্যান্ডটি ওয়াই-ফাইসহ নতুন অ্যাপ্লিকেশন ও পরিষেবাগুলোকে সমর্থন করতে পারে। এছাড়া ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কের উন্নয়নে এটি সহায়ক হবে। 

উভয় পক্ষের আলোচনা কার্যকর মনে হলেও ভারতের টেলিযোগাযোগ বিভাগ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এমনকি গত বছর দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের ওয়ার্ল্ড রেডিও কমিউনিকেশন কনফারেন্সে নেয়া ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন (আইএমটি) সম্পর্কিত সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলোয়ও ভারত সরকারের প্রতিনিধিরা সুস্পষ্টভাবে কিছু জানাননি।

বর্তমানে ভারতের স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইসরো) আংশিকভাবে এ মিড ব্যান্ডটি ব্যবহার করছে। দেশটির প্রযুক্তিবিশারদদের তথ্যানুযায়ী, ভারতে ফাইভজি নেটওয়ার্কের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে পরিষেবার গুণগত মান ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখার জন্য অতিরিক্ত স্পেকট্রামের প্রয়োজন হবে। তাদের মতে সিক্সজি স্পেকট্রামের যে সক্ষমতা, তা ভারতে দ্রুত ফাইভজি সম্প্রসারণের পাশাপাশি উদ্ভাবন, সাশ্রয়ী সংযোগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক হবে।

জিএসএমএ ইন্টেলিজেন্সের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩-৪০ সালের মধ্যে ফাইভজির মাধ্যমে ভারতের অর্থনীতি ৩৬ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন রুপি বা ৪৫ হাজার ৫০০ কোটি ডলার আয় করবে। এছাড়া ভারতে বর্তমানে ফাইভজি স্মার্টফোনের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। এর মাধ্যমে দেশটিতে ফাইভজির বিকাশে বড় প্রভাবক হিসেবে প্রিমিয়াম স্মার্টফোন উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফাইভজি স্মার্টফোন বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারীরাও সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে ভারতীয় ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। ভবিষ্যতে মোবাইল ডাটা ব্যবহারের পরিমাণও বাড়বে। 

ভারতে বর্তমানে ফাইভজি ডিভাইসের দাম নিম্নমুখী। অনলাইন ও অফলাইন খুচরা দোকানের বিভিন্ন ছাড় ও সুবিধার কারণে দাম কমেছে। যে কারণে ২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে রেকর্ড ২ কোটি ৫০ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে। এছাড়া বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভারতে ১ কোটি ৭০ লাখ ইউনিট ডিভাইস বিক্রি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ৬৫-৭০ হাজার রুপি মূল্যের প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের বাজার ৪৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আর এর নেতৃত্বে ছিল কুপারটিনোভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। এ সময় কোম্পানিটির বাজার হিস্যা ৪ থেকে ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

অন্যদিকে ডিভাইসের গড় বিক্রয়মূল্য ২৫৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা প্রান্তিকওয়ারি হিসাবে ৫ শতাংশ এবং বছরওয়ারি হিসাবে ১২ শতাংশ বেড়েছে। স্মার্টফোন উৎপাদনকারীরা বর্তমানে সহজলভ্য ফাইভজি ডিভাইস বাজারজাতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে।