কোয়ান্টাম ফিজিক্সভিত্তিক উদীয়মান প্রযুক্তিতে ৫০ কোটি পাউন্ড বা ৬৩ কোটি ৫০ ডলারের সমতুল্য বিনিয়োগ করবে ব্রিটিশ সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্রযুক্তি দেশটির অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম। খবর এফটি।
২০২৩ সালে প্রযুক্তি খাতে ১০ বছরে ২৫০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের উচ্চাভিলাষী ঘোষণা দেয় তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকার। ওই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল তখন। এরপর নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে এগিয়ে এসেছে বর্তমান ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি সরকার। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্রিটেনকে কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
নতুন পরিকল্পনার সমর্থকরা বলছেন, উন্নত শিল্প উপকরণ আবিষ্কার থেকে শুরু করে মানবদেহের অভ্যন্তরীণ চিত্র তুলে ধরা পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করবে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি। এটি কম্পিউটার যোগাযোগে নিরাপত্তা আরো বাড়াতে সক্ষম হবে।
অক্সফোর্ড কোয়ান্টাম সার্কিটসের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী জেরাল্ড মুল্যালি বলেন, ‘স্বাধীনভাবে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং সক্ষমতা গড়ে তোলা জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
গত জুলাইয়ে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর, কনজারভেটিভ সরকারের শেষ দিকে ঘোষিত বেশ কয়েকটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কৌশল নিয়ে পর্যালোচনা করেছে। এর একটি কারণ ছিল যথাযথ তহবিল পূরণে সক্ষমতা।
কোয়ান্টাম সেন্সিংয়ের মাধ্যমে লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেনগুলো আরো নির্ভুলভাবে শনাক্ত করার পরীক্ষাও চলছে। মানব মস্তিষ্ক পর্যবেক্ষণ ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তে কোয়ান্টাম ইমেজিং প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজও এগিয়ে চলছে।
ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্সের প্রধান নির্বাহী টম গ্রিনিয়ার বলেন, ‘কোয়ান্টাম প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ইন্টারনেটের মতোই যুগান্তকারী পরিবর্তন বয়ে আনবে।’
সরকারের আগ্রহের আরেকটি কারণ হলো, ব্রিটিশ কোয়ান্টাম কোম্পানির বিদেশী বিশেষত মার্কিন কোম্পানির কাছে বিক্রির প্রবণতা। চলতি মাসেই অক্সফোর্ড আয়নিকস ও অক্সফোর্ড ইনস্ট্রুমেন্টসের কোয়ান্টাম ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর হাতে চলে গেছে।
যুক্তরাজ্যে বিজ্ঞানমন্ত্রী লর্ড প্যাট্রিক ভ্যালান্স আগেই দেশের উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্বতন্ত্রভাবে গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়েছেন।










