বিশ্বজুড়ে বিপজ্জনক হারে পাসওয়ার্ড চুরি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণার ফলাফলে সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি স্পেকঅপস জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ম্যালওয়্যার আক্রমণের মাধ্যমে ১০০ কোটির বেশি পাসওয়ার্ড চুরি হয়েছে। আশঙ্কার ব্যাপার, চুরি হওয়া পাসকোডের মধ্যে দীর্ঘ ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ডও ছিল। খবর টেকরাডার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হ্যাকাররা খুবই সহজ কৌশল ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করছে। তাছাড়া একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার করাও বিপজ্জনক হিসেবে গবেষণায় উঠে এসেছে।

স্পেকঅপসের গবেষণায় দেখা যায়, তথ্য ফাঁসের ৪৪ শতাংশ ঘটনায় চুরি হওয়া পাসওয়ার্ড ব্যবহার হয়েছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর লাখ লাখ ডলার খরচ হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ফাঁস হওয়া পাসওয়ার্ড ছিল ‘১২৩৪৫৬’, যা ১৪ লাখের বেশি চুরি হওয়া পাসওয়ার্ডে পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ১৮ লাখ চুরি হওয়া অ্যাডমিন পাসওয়ার্ডের মধ্যে ৪০ হাজার অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ছিল ‘Admin’। এর অর্থ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরাও পাসওয়ার্ড চুরির হুমকিকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ২৩ কোটি চুরি হওয়া পাসওয়ার্ড নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করেই তৈরি করা হয়েছে। এসব পাসওয়ার্ড আটটির বেশি অক্ষর নিয়ে গঠিত ছিল, যার মধ্যে অন্তত একটি বড় হাতের অক্ষর, একটি সংখ্যা ও একটি বিশেষ ক্যারেক্টার ছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘ পাসওয়ার্ড সবসময় সুরক্ষা নিশ্চিত নাও করতে পারে। কেননা চুরি হওয়া ৩ কোটি ১০ লাখ পাসওয়ার্ড ছিল ১৬ অক্ষরের বেশি। লম্বা পাসওয়ার্ড bcrypt পদ্ধতিতে হ্যাক করতে কয়েক লাখ বছর লাগতে পারে। তবে ওই পাসওয়ার্ড পুনরায় ব্যবহার করা হলে বা এরই মধ্যে চুরি হওয়া পাসওয়ার্ডের মধ্যে থাকলে তার নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে হ্যাকাররা ব্রুট ফোর্স, মাস্ক অ্যাটাক ও ডিকশনারি অ্যাটাক পদ্ধতিতে আক্রমণ চালাতে পারে। তাই পাসওয়ার্ডে সাধারণ শব্দ ও বাক্যাংশ ব্যবহার এড়ানো উচিত।

স্পেকঅপসের সিনিয়র প্রডাক্ট ম্যানেজার ড্যারেন জেমস বলেন, ‘ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে চুরি হওয়া পাসওয়ার্ডের সংখ্যা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত। কেননা পাসওয়ার্ড শক্তিশালী ও মানদণ্ড পূরণ করলেও এটি ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষা নাও পেতে পারে।’

পাসওয়ার্ডের সুরক্ষার জন্য তৃতীয় পক্ষের সেবা ব্যবহার করতে চাইলে সেরা পাসওয়ার্ড ম্যানেজারগুলোর তালিকা থেকে বেছে নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপগুলো সব পাসওয়ার্ড এক জায়গায় রাখার সুবিধা দেয়, মনে রাখার ঝামেলা কমায়।

সুরক্ষা নিশ্চিতের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, পাসওয়ার্ড জেনারেটর ব্যবহার করা। এগুলো সাধারণত এলোমেলোভাবে পাসওয়ার্ড তৈরি করে, যা অনুমান করা প্রায় অসম্ভব। এ কারণে এগুলো অত্যন্ত নিরাপদ বিকল্প।