শেখ হাসিনাসহ দণ্ডপ্রাপ্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে প্রতিবেশী দেশের কাছে আবেদন জানিয়েছে সরকার। তাদের ফেরত পাওয়ার জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষার কোনো বিষয় নেই। আজই যদি তাদের প্রত্যর্পণ করা হয়, তাহলে আদালতের রায় অনুযায়ী আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সচিবালয়ে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আজ সকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনাসহ যারা সাজাপ্রাপ্ত, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কিংবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন, তাদের প্রত্যর্পণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশী দেশের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর কেন, আজকেই যদি তারা প্রত্যাবর্তিত হন, প্রত্যর্পণ করা হয়, আমরা তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব। আদালতের রায় অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট মাস বা তারিখ সামনে রেখে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির কোনো চেষ্টা সফল হতে দেয়া হবে না। ডিসেম্বর, ফেব্রুয়ারি কিংবা নভেম্বর, যেকোনো সময় এ ধরনের প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

তিনি বলেন, ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের মাস। এ মাস উপলক্ষে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকবে। পলাতক আসামিরা ডিসেম্বর বা জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে কী করতে চান, সেটি তাদেরই জিজ্ঞাসা করা উচিত।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, যারা দণ্ডপ্রাপ্ত, তারা যেখানেই থাকুক এবং যে দেশেই আশ্রয় নিক, তাদের দ্রুত দেশে প্রত্যাবর্তন করা উচিত। দেশে ফিরলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং সুবিচার নিশ্চিত করা হবে।

সাম্প্রতিক গার্মেন্টস শ্রমিক অসন্তোষের প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, কর্তৃপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইনের শাসন বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমনের নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকার শ্রমিকবান্ধব ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে চায়।