ইন্টারনেট-কানেক্টেড চিপ মেশিনের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী উ চেং-ওয়েন। তিনি বলেছেন, চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হলে এএসএমএল ও টিএসএমসির মতো প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট-কানেক্টেড চিপ মেশিনের উৎপাদন অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। খবর টেক টাইমস।
এএসএমএল হলো নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা কোম্পানি। বাজারমূল্যের হিসাবে এটি ইউরোপের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। তারা মূলত অত্যাধুনিক লিথোগ্রাফি মেশিন সরবরাহ করে। এ লিথোগ্রাফি মেশিনটি চিপ উৎপাদনের ক্ষেত্রে অপরিহার্য। এএসএমএল এ মেশিনের সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে ‘তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি’ (টিসএসএমসি)। বিশ্বে যে পরিমাণ অত্যাধুনিক চিপ সরবরাহ হয়, তার প্রায় ৯০ শতাংশই উৎপাদন করে তাইওয়ানভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানটি। ডাটা সেন্টার থেকে শুরু করে স্মার্টফোনের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক চিপটি খুব জরুরি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সামরিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন চিপ সরবরাহের ক্ষেত্রেও টিএসএমসি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান।
চিপ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে সেটা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, শুধু তাইওয়ান ও চীনের মধ্যকার অস্থিরতার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এরই সঙ্গে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিরাজমান অস্থিরতাও এ খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে সম্প্রতি চীনের প্রযুক্তি খাতে নতুন করে বেশকিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে এআই চিপ কিনে চীন যেন তাদের সক্ষমতা বাড়াতে না পারে, মূলত সে উদ্দেশ্যেই এ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। এছাড়া এএসএমএলের উৎপাদিত নির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্য চীনে রফতানি না করার জন্য নেদারল্যান্ডসকে আহ্বান জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এএসএমএল এরই মধ্যে চীনে রফতানি করা কিছু পণ্যের সার্ভিসিং কার্যক্রম কমিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
তাইওয়ানকে বলা হয় সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের কেন্দ্রস্থল। এক্ষেত্রে চীনের বড় ধরনের সামরিক মহড়া ও তাইওয়ানের নতুন সরকারের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থানের কারণে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত দেখা দিতে পারে। আর সে ধরনের কিছু ঘটলে বিশ্ববাজারে চিপ সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে মনে করছেন সেমিকন্ডাক্টর খাতসংশ্লিষ্টরাও।










