অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আইফোন ১৫ সিরিজ উন্মোচন করেছে কুপারটিনোর প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। আইফোন ছাড়াও নতুন ওয়াচ সিরিজ ৯ ও আল্ট্রা ২ ওয়াচ এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাপল পার্কে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ওয়ান্ডারলাস্ট ইভেন্টটির আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল আইফোন ১৫ সিরিজ। এ সিরিজে মোট চারটি মডেল উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স। 

মডেলগুলো হচ্ছে আইফোন ১৫, আইফোন ১৫ প্লাস, আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স। এর মধ্যে আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্সে রয়েছে অ্যাপলের এ১৭ বায়োনিক চিপসেট। অন্যদিকে এ১৬ বায়োনিক চিপসেট রয়েছে আইফোন ১৫ এবং আইফোন ১৫ প্লাস ফোনে। এছাড়া রয়েছে ডায়নামিক আইল্যান্ড ফিচার এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি ক্যামেরা সেন্সর। পাশাপাশি অারো একটি বিষয় জানানো হয়েছে। এখন থেকে অার ১৩ মিনি সিরিজের কোনো ডিভাইস বিক্রি করবে না যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রযুক্তি জায়ান্ট।◌কোম্পানিটি জানায়, গ্রাহকদের বড় ডিসপ্লের চাহিদা মিনি ডিভাইসের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে। যে কারণে নতুন ভার্সন বাজারজাতের সঙ্গে মিনির উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

নতুন মডেলগুলোয় রয়েছে টাইপ-সি ইউএসবি পোর্ট। এছাড়া এ সিরিজের ডিভাইসগুলোয় টাইটেনিয়াম শেলের বডি, দ্রুতগতির নতুন এ১৭ বায়োনিক চিপ ও উন্নত ভিডিও গেম খেলার সক্ষমতা রয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর বাজারে আসবে আইফোন ১৫ সিরিজ। তবে এবার দাম বাড়ানো হয়নি। এতে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের বাজারে মন্দা ভাবের বিষয়টি সামনে এসেছে। এদিকে অ্যাপলের তৃতীয় বৃহত্তম বাজার চীনে সরকারি অফিসে আইফোন ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি হুয়াওয়ের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন মেট ৬০ সিরিজের আগমনের কারণে আরো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে আইফোন। 

নতুন মডেল উন্মোচন উপলক্ষে আয়োজিত অ্যাপলের এবারের অনুষ্ঠানে যুগান্তকারী কোনো প্রযুক্তি উন্মোচন করা হয়নি। তবে তাদের পণ্যে মেশিন লার্নিং প্রযুক্তিচালিত বেশ কয়েকটি নতুন ফিচার চালু করা হয়েছে। একটি ফিচারে ছবি থেকে ব্যক্তিকে মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক পোর্ট্রেট ছবি তৈরি করা যাবে। এছাড়া সিরিজ ৯ ওয়াচে ডাবল ট্যাপ ফিচার এনেছে অ্যাপল। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ঘড়ি স্পর্শ না করেও ফোনকল ধরতে পারবে। 

আইফোন ১৫ সিরিজের প্রো মডেলগুলোয় অত্যাধুনিক এ১৭ বায়োনিক চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যাপলের দাবি অনুযায়ী, এটি তিন ন্যানোমিটার প্রসেসর এবং আগের প্রসেসরের থেকে ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী। স্ট্যান্ডার্ড মডেলগুলো অর্থাৎ নন-প্রো আইফোনে থাকছে ডায়নামিক আইল্যান্ড ও ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। অন্যদিকে আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স ভার্সনে ৫এক্স অপটিক্যাল জুম এবং ১০এক্স ম্যাক্রো ফটোগ্রাফির জন্য থাকছে ১২০ মিলিমিটারের লেন্স। এছাড়া আইফোন ১৫ সিরিজে ইমার্জেন্সির সময় সহায়তা আহ্বানের জন্য স্যাটেলাইট সংযোগ রয়েছে।  আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স—এই দুই ফোনে রয়েছে ইউএসবি টাইপ-সি চার্জিং পোর্ট। ‘‌প্রো ম্যাক্স’ মডেলে রয়েছে একটি পেরিস্কোপ ক্যামেরা, যার সাহায্যে জুম ফিচার আরো ভালোভাবে পাওয়া যাবে। প্রো মডেলগুলোয় বডি তৈরিতে টাইটানিয়াম ব্যবহার করা হয়েছে, যা ডিভাইসগুলোকে আরো হালকা ও মজবুত করেছে। 

একই অনুষ্ঠানে ডাবল ট্যাপ সুবিধাসহ অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৯ আনার ঘোষণা দিয়েছে অ্যাপল। নতুন সিরিজের স্মার্টওয়াচে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাপলের চিপ এস ৯। ওয়াচ ওএস ১০ অপারেটিং সিস্টেমে চলা ঘড়িটিতে ভার্চুয়াল সহকারী সিরি ব্যবহারের পাশাপাশি ফোনকল রিসিভ বা বাতিল করা যাবে। অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৯-এর দাম শুরু হবে ৩৯৯ ডলার থেকে। আর আল্ট্রা ২ ওয়াচের দাম শুরু হবে ৭৯৯ ডলার থেকে। আইফোন ১৫ বেসিক মডেলের দাম রাখা হবে ৭৯৯ ডলার। আইফোন ১৫ প্লাস রাখা হবে ৮৯৯ ডলার। প্রো সিরিজের দাম শুরু হবে ৯৯৯ ডলার থেকে।