সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ রফতানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর বিকল্প উৎস থেকে যন্ত্রাংশ আমদানি করছে চীন। এর অংশ হিসেবে নভেম্বরে নেদারল্যান্ডস ও জাপান থেকে উন্নত চিপ উৎপাদনে ব্যবহৃত লিথোগ্রাফি সিস্টেমের আমদানি বাড়িয়েছে দেশটি। বছওয়ারি হিসেবে শুধু ডাচ লিথোগ্রাফি সিস্টেম আমদানি বেড়েছে ১০ গুণ। খবর গিজমোচায়না।
গত মাসে মেশিনটির ১৬ ইউনিট আমদানি করেছে চীন, যার মোট মূল্য ৭৬ কোটি ২৭ লাখ ডলারের বেশি। চীনের সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতারা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের বাজার থেকে বিকল্প সরঞ্জাম পাচ্ছে। ফলে এটি ইঙ্গিত দেয়, চীনা কোম্পানিগুলো চিপ তৈরির জন্য কিছু উন্নত সরঞ্জাম কেনা এখনো বাদ দেয়নি। এর আগে অক্টোবরে ২১টি লিথোগ্রাফি সিস্টেম আমদানি করেছিল চীন, যার মূল্য ৬৭ কোটি ২৫ লাখ ডলার। সেখানে নভেম্বরে উচ্চমূল্যে আমদানি করা ১৬টি সিস্টেমের দাম পড়েছে ৭৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার।
চীনা কোম্পানিগুলোর কাছে উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জাম বিক্রি না করতে অন্যান্য দেশকে বাধা দিতেও কাজ করছে বাইডেন প্রশাসন। যদিও এ প্রবাহ এখনো পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি ওয়াশিংটন। জাপানের পর সবচেয়ে উন্নত চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত লিথোগ্রাফি সরঞ্জামের বৃহত্তম রফতানিকারক দেশ নেদারল্যান্ডস। লিথোগ্রাফি মেশিন উৎপাদনে নেদাল্যান্ডসের একটি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি অ্যাডভান্স সেমিকন্ডাক্টর ম্যাটারিয়ালস লিথোগ্রাফি (এএসএমএল)। উন্নত লিথোগ্রাফি সিস্টেমের প্রযুক্তির ক্ষেত্রে শীর্ষ অবস্থান থেকে চীন এখনো অনেক দূরে রয়েছে। যদিও দেশটির সরকার ব্যাপক বিনিয়োগ করেও ব্যবধান কমাতে পারেনি।
ধারণা করা হচ্ছে, ২০২১ সালে চীনা ফ্যাবগুলোয় ব্যবহৃত লিথোগ্রাফি সিস্টেমের ৫ শতাংশেরও কম চীন তৈরি করতে পেরেছে। যদিও সামনের দিনগুলোয় দেশটিতে চিপ তৈরির প্রযুক্তি, সরঞ্জাম রফতানিতে আরো নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
চিপ তৈরির সরঞ্জামগুলোয় নতুন বিধি এবং রফতানি নিয়ন্ত্রণ করতে যাচ্ছে নেদারল্যান্ডস ও জাপান উভয় দেশ। দুই দেশ মার্কিন অনুরোধে রাজি হয়েছে। ফলে জানুয়ারিতে তারা চিপ মেকিং সরঞ্জাম রফতানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া চীনের উদ্দেশে নতুন করে বিধিনিষেধ চালু করেছে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ। যুক্তরাষ্ট্র তথাকথিত ডি মিনিমিস নীতি বাতিল করেছে, যা কিছু ডি আল্ট্রাভায়োলেট (ডিইউভি) সরঞ্জামের জন্য প্রযোজ্য ছিল। নভেম্বর থেকে এ নীতিমালা কার্যকর হয়েছে। চীনের সাম্প্রতিক আমদানি বৃদ্ধির সঙ্গে নতুন বিধিনিষেধের কোনো সংযোগ নেই বলে সূত্রে জানা গেছে। কারণ, নভেম্বরে পাঠানো সরঞ্জামগুলো ২০২২ ও ২০২৩ সালের প্রথম দিকে অনুমোদন পেয়েছে।










