সেন্ট ভিনসেন্টে সিরিজের ২য় টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৭ রানে পরাজিত করে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেটে ১২৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে বোলিং ইউনিটের দুর্দান্ত পারফরমেন্সে ক্যারিবীয়দের ১৮ ওভার ৩ বলে ১০২ রানে অলআউট করে জয় পায় লিটন দাসের দল।
অধিনায়ক হিসেবে ও উইকেটের পেছনে দারুণ অবদান রেখে চললেও লিটন দাসের কাছ থেকে যে ভূমিকা সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা করা হয়, উইকেটের সামনে অর্থাৎ টপ অর্ডার ব্যাটার হিসেবে সে কাজে ব্যর্থতার বৃত্তেই বন্দি রইলেন এই স্টাইলিশ ডানহাতি ব্যাটার। ১০ বলে ৩ রান করে একরাশ হতাশা ছড়িয়ে আকিল হোসেনের বলে আউট হন তিনি। তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকারও পারেননি রানের গতি বাড়াতে। উল্টো ৯ম ওভারে তৃতীয় উইকেটের পতনের সময় স্কোরবোর্ডে সংগ্রহ ছিল মাত্র ৩৯ রান।
এরপর কিছুটা সময় লড়ে যান মেহেদী হাসান মিরাজ ও জাকের আলী। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। ১৫ ওভার পর্যন্ত রানরেট থেকে যায় ৫ এর ঘরেই। ১৭তম ওভারের প্রথম বলে ৮৮ রানের মাথায় ৭ম উইকেটের পতন ঘটে। এরপর রানের গতি বাড়ান শামীম হোসেন। ১৯ ওভার শেষে রান ছিল ১১৪/৭। রোমারিও শেফার্ডের শেষ ওভার থেকে ১৫ রান নিয়ে শামীম দলকে সম্মানজনক স্কোর এনে দেন। ২টি করে বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারিতে ১৭ বলে ৩৫ রান করেন শামীম। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ২৬ এবং জাকের আলী করেন ২১ রান।

১৩০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে তাসকিন আহমেদের জোড়া আঘাতের পর আর মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে এক পর্যায়ে ৪২ রানে ৬ষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে ক্যারিবীয়দের। ৭ম উইকেট জুটিতে আকিল হোসেন ও রোস্টন চেস যোগ করেন ৪৭ রান। কিন্তু ১ রানের মধ্যেই ৩ উইকেট হারায় রভম্যান পাওয়েলের দল। শেষে ১০২ রানে শেষ হয় ধুঁকতে থাকা উইন্ডিজের ইনিংস।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আগে ব্যাট করে জয় পাওয়া ম্যাচগুলোর মধ্যে এটিই ছিল টাইগারদের দলীয় সর্বনিম্ন সংগ্রহ। আর উইন্ডিজের হার্ড হিটারদের কাছ থেকে এই ১২৯ রানকে সুরক্ষিত রাখতে একইসঙ্গে জ্বলে উঠেছে পেস ও স্পিন ইউনিট। ১৬ রানে ৩ উইকেট দখল করেন তাসকিন। এছাড়া রিশাদ, তানজিম সাকিব ও মাহেদী হাসান নেন দুটি করে উইকেট। ম্যাচ সেরা হয়েছেন শামীম হোসেন।
টি-টোয়েন্টির অন্যতম বিপজ্জনক দল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদেরই মাটিতে হারানো বাংলাদেশের জন্য এক দারুণ অর্জন, সেটাও আবার ০-৩ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারার পর। দুই ম্যাচেই স্পিন ও পেস ডিপার্টমেন্টে ক্যারিবীয়দের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন তাসকিন-মাহেদীরা। বিজয়ের মাসে এবার সিরিজও জয় করল বাংলাদেশ।










