গোটা সিরিজে ছিল দুর্দান্ত লড়াই আর নাটকীয়তা। তা বহাল থাকল শেষ মুহূর্তেও। ওভাল টেস্টে আজ সোমবার পঞ্চম দিন রুদ্ধশ্বাস কিছু মুহূর্তের পর অবশেষে ৬ রানের নাটকীয় জয়ে সিরিজ ২-২-এ ড্র করল ভারত। ৩৭৪ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমে ৩৬৭ রানে অলআউট হয়েছে স্বাগতিকরা।
৪ উইকেট হাতে নিয়ে আজ পঞ্চম ও শেষ দিন ৩৫ রানের প্রয়োজন ছিল ইংল্যান্ডের। এ রানগুলো তারা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তীরে এসে তরী ডোবায় সিরিজও জেতা হলো না জো রুটদের।
৮৩তম ওভারের শেষ বলে জস টাং বোল্ড হয়ে যান প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর বলে (৩৫৭/৯)। নবম উইকেট পতনের পর শেষ ব্যাটার হিসেবে নামেন আহত ক্রিস ওকস, যার বাম হাত সোয়েটারের নিচে বাধা ছিল। স্ট্রাইকে গেলে ব্যাট করতে হতো এক হাত দিয়ে। ওকসকে যেন স্ট্রাইক দিতে না হয় সেভাবেই ব্যাটিং করে যান গাস অ্যাটকিনসন। ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৭ রান। পরের ওভারে মোহাম্মাদ সিরাজকে ছক্কা মেরে ভারতীয়দের মনে কাঁপন ধরিয়ে দেন তিনি। স্বাগতিকরা জয় থেকে তখন মাত্র ১১ রান দূরে।
অ্যাটকিনসন চেষ্টা করছিলেন বাউন্ডারি নিতে। ৮৪ ও ৮৫তম ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে নিজে স্ট্রাইকে থাকা নিশ্চিত করেন অ্যাটকিনসন। এভাবে দুই ওভার কাটিয়ে দেয়ার পর তৃতীয় ওভারে শেষ হয় সকল নাটকীয়তার। ইংল্যান্ডকে জিততে করতে হতো ৭ রান, অ্যাটকিনসন স্ট্রাইক নিচ্ছিলেন বলে আশায় বুক বেধে ছিল ইংল্যান্ড, আর ভারতের তখন রাজ্যের টেনশন। যদিও সিরাজের অফস্ট্যাম্পে পড়া ফুল টসের বলে বোল্ড হয়ে যান অ্যাটকিনসন। অভাবনীয়, অবিশ্বাস্য আনন্দ-উচ্ছ্বাস তখন ভারতীয় খেলোয়াড় ও দর্শকের মাঝে। রক্ত হিম করে দেয়া এ লড়াইয়ের পর যে জয় এলো তাতে ১-৩-এ হার থেকে বেঁচে গিয়ে সিরিজটা ২-২-এ ড্র করতে পারল শুবমান গিলের দল।
টেস্টে এটাই তাদের সবচেয়ে কম রানের জয়। এর আগে সবচেয়ে কম রানের জয় ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে (১৩ রানে)।
দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন মোহাম্মদ সিরাজ। সিরিজজেতা হয়েছেন দুজন-৪ সেঞ্চুরিতে ৭৫৪ রান করা ভারতের শুবমান গিল ও ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক, যিনি করেন ৪৮১ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ২২৪ ও ৩৯৬। ইংল্যান্ড: ২৪৭ ও ৩৬৭। ফল: ভারত ৬ রানে জয়ী। সিরিজ: ২-২-এ ড্র।










