প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশে সংগ্রহ ১৬৪ রান। এমন মামুলি সংগ্রহের পর লিড পাওয়া যাবে তা হয়তো কারোই প্রত্যাশা ছিল না। তবে তরুণ গতিময় পেসার নাহিদের ঝাঁজে ১৮ রানের লিড পেয়েছে মিরাজরা। রানা ৫ উইকেট নিতে খরচা করেছেন ৬১ রান। তাকে সঙ্গ দিয়েছেন প্রত্যেকেই। বাংলাদেশের বোলারদের মাঝে উইকেটবিহীন ছিলেন না কেউই। ক্যারিবিয়ানরা গুটিয়ে যায় ১৪৬ রানে। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। আর দেশের বাইরে এটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বনিম্ন স্কোর।

এদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং এমনিতে একটু নড়বড়ে। ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ছাড়া অভিজ্ঞতার ঘাটতিও চরম। তৃতীয় দিনে নেমে ১ উইকেটে ৮৫ থেকে আর ৬১ রান যোগ করতেই হুড়মুড়িয়ে ধসে যায় তারা। ১ উইকেটে ৭০ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শুরুতেই চেপে ধরেন বাংলাদেশের বোলাররা। দিনের শুরুতেই রানার বলে পরপর দুই উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর তাসকিন এবং তাইজুলের বলেও দ্রুত আরও দুই উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। এরপর উইকেট শিকারে যোগ দেন হাসান মাহমুদ। তিনিও নেন দুই উইকেট।

নাহিদ রানার আগুনে বোলিংয়ের সামনে কুপোকাত হন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ব্র্যাথওয়েট। ১৪২ কিলোমিটার গতিতে ছুটে আসা বলে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি ক্যারিবীয় দলপতি। ব্যাক ফুটে গিয়ে বলটা বলটা ব্লক করার চেষ্টা করেন; কিন্তু ব্যাটের উপরের অংশে লাগিয়ে ক্যাচ তুলে দেন গালি অঞ্চলে। সেখানে নিচু হয়ে আসা ক্যাচটি তালুবন্দী করে নেন বদলি ফিল্ডার জাকির হাসান।

৩৯ রান করে ফিরে যান ব্র্যাথওয়েট। ৩৩ রান নিয়ে নেমে মাত্র ৬ রান যোগ করতে পারেন তিনি। দলীয় ৮৫ রানের মাথায় আউট হন ক্যারিবীয় অধিনায়ক।এরপর কাভেম হজকে সহজ ক্যাচে পরিণত করেন রানা। ৪৫তম ওভারের চতুর্থ বলে পুল রতে গিয়েই ব্যাটের উপরের অংশে লাগিয়ে আকাশে বল তুলে দেন হজ। ফাইন লেগে ক্যাচ ধরতে ছুটে যান উইকেটরক্ষক লিটন। কিন্তু তার আগেই সেখানে পৌঁছান তাসকিন। কিন্তু বল বেশি ওপরে থাকায় সহজ ক্যাচটা মিস করে ফেলেন তাসকিন। তার হাত ফসকে বল পড়ে যায় মাটিতে।

এক বল বিরতি দিয়েই হজের উইকেট তুলে নেন নাহিদ রানা। এবার নাহিদ রানার চেয়ে এই উইকেটের কৃতিত্ব সবচেয়ে বেশি উইকেটরক্ষক লিটন দাসের। বাজপাখির মত ঝাঁপিয়ে পড়ে যেভাবে কাভেম হজের ব্যাটের কানায় লেগে ছুটে আসা বলটিকে এক হাতে তালুবন্দী করলেন, তা রীতিমত অবিশ্বাস্য। ৩ রান করে আউট হয়ে যান কাভেম হজ।

অ্যালিক আথানাজেকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি তাসকিন আহমেদ। তার বলে বোল্ড হয়েই মাত্র ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ক্যারিবীয় মিডল অর্ডার। জাস্টিন গ্রিভসকেও ঘূর্ণিতে বোকা বানান তাইজুল ইসলাম। সোজা বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান। ২ রান করে আউট হন গ্রিভস। এরপর ৫ রান করা জসুয়া সিলভাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন হাসান মাহমুদ। নিজের পরের ওভারে সেট ব্যাটার কিয়েসি কার্টিকেও (৪০) তুলে নেন এই পেসার। লাঞ্চের আগে আলজেরি জোসেফকে আউট করে নিজের চতুর্থ উইকেট শিকার করেন নাহিদ রানা। ১২৩ রানে ৮ উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা।

৮ উইকেটে ১৩৫ রান নিয়ে লাঞ্চ বিরতিতে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারেই শামার জোসেফকে (৬) এলবিডব্লিউ করেন মিরাজ। আর শেষ ব্যাটার কেমার রোচকে (৮) এলবিডব্লিউ করে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেট শিকার করেন নাহিদ রানা। সবমিলিয়ে ৬১ রানে ৫ উইকেট নেন নাহিদ রানা। এটিই তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। দিন শেষে বিসিবির প্রকাশিত ভিডিওতে ক্যামেরার সামনে এসেছিলেন রানা। সেখানেই নিজের বোলিং নিয়ে জানিয়েছেন ভালো লাগার কথা।

রানা বলছিলেন, ‘প্রথমে শুকরিয়া আদায় করতে চায় আলহামদুলিল্লাহ পাঁচ উইকেট পেয়েছি এজন্য। বেশি কিছু ট্রাই করিনি জাস্ট চেষ্টা করেছি ব্যাটসম্যানকে রুম (সুযোগ) না দেয়ার। কোন অবস্থাতে কোন ব্যাটারকে কিভাবে বোলিং করা যায় সেটা চেষ্টা করেছি।’