বড়দের পর এবার ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের কিশোরীরাও। গত মাসে ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চামকা, আফঈদা খন্দকাররা মিয়ানমারের মাঠে চমক দেখিয়ে বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে খেলার টিকিট এনে দেন। তাদের দেখানো পথে এবার প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের টিকিট পেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারীরাও।
লাওসে আজ রোববার বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-১ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। বড় এ হারের পরও সেরা তিন রানার্সআপ দলের একটি হিসেবে মূল পর্বের টিকিট পায় লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।
আজ দক্ষিণ কোরিয়ার জালে আগে বল পাঠায় বাংলাদেশ। ১৫ মিনিটে লিড নেয় আফঈদা খন্দকারের দল। শান্তি মার্ডির বাড়ানো পাস থেকে গোল করেন তৃষ্ণা রানী। এর চার মিনিট পর গোল পরিশোধ করে কোরীয়রা। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল হয়নি। এটুকু পর্যন্ত সফল ছিল পিটার বাটলারের দল। তাতে মূল পর্বে ওঠার আশাও বেঁচে থাকে। যদিও দ্বিতীয়ার্ধে কোরীয়দের গতি আর কৌশলের কাছে অসহায় হয়ে পড়েন আফঈদারা। বাংলাদেশের রক্ষণকে হতবিহ্বল করে একের পর এক গোল উৎসব করে কোরীয় মেয়েরা। শেষ পর্যন্ত ৬-১ গোলের বিশাল জয় তুলে নিয়ে মূল পর্বে নাম লেখায় এশিয়ান পরাশক্তিরা। বাংলাদেশ পড়ে অনিশ্চয়তায়। যদিও শেষ পর্যন্ত সুখবর পেয়েছেন আফঈদারা।
আজ ড্র করলেই চলতো বাংলাদেশের। যদিও প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া দুইবারের সাবেক এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন বলে কাজটা কঠিনই ছিল আফঈদাদের। লাওসের বিপক্ষে অনেকটা বিবর্ণ থাকলেও বাংলাদেশকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করল কোরীয়রা। দাপটে জয় তুলে নিয়ে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ২০২৬ সালের এশিয়ান কাপের টিকিট কাটে তারা। আর বাংলাদেশকে রাখে অনিশ্চয়তায়। পরে ‘ই’ গ্রুপ ম্যাচে লেবাননকে ৮-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বাংলাদেশকে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে তুলে নেয় চীন!
এর আগে আজ উত্তর কোরিয়ার কাছে ১১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে নেপাল। বাংলাদেশের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানকে ১১-০ গোলে হারিয়েছে জাপান। তখন বাংলাদেশের মেয়েরা রানার্সআপ দলগুলোর মধ্যে তিনে অবস্থান করছিল। ‘সি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া-চায়নিজ তাইপে, ‘ই’ গ্রুপে চীন-লেবানন ও ‘জি’ গ্রুপের উজবেকিস্তান-জর্ডান ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করছিল বাংলাদেশের ভাগ্য। সন্ধ্যায় চীনের কাছে লেবানন বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়ায় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের চূড়ান্ত পর্বে উত্তরণ।
সন্ধ্যা পর্যন্ত মূল পর্বের টিকিট পেয়েছে চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, উত্তর কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ। স্বাগতিক হিসেবে আগেই মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত থাইল্যান্ডের। বাছাইপর্বে মোট ৩৩টি দল লড়াই করছে ১১টি টিকিটের জন্য।
দেশের ফুটবল ইতিহাসে সর্বপ্রথম ১৯৮০ সালে কুয়েতে এশিয়ান কাপে খেলেছিল বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দল। ২০০৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপে খেলে বাংলাদেশের মেয়েরা। ২০১৭ ও ২০১৯ সালের আসরেও খেলেছেন তারা। এবার বাংলাদেশ জাতীয় নারী দল ও অনূর্ধ্ব-২০ দলও এশিয়ার মঞ্চে নিয়ে যাচ্ছে লাল-সবুজ পতাকা।
আগামী বছর মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় বসছে মেয়েদের সিনিয়র এশিয়ান কাপ ফুটবল আসর। পরের মাসে থাইল্যান্ডে বসবে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ ফুটবল। দুটিতেই থাকছে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং দুটিতেই যা হবে প্রথম!










