সংগীত কিংবদন্তি কিশোর কুমার ১৯৫৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বেগুনাহ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন।
ছবিটি মুক্তির পর সেটি বাজেয়াপ্ত ঘোষণার পাশাপাশি এর সব প্রিন্ট ধ্বংসের আদেশ দিয়েছিলেন মুম্বাই হাইকোর্ট।
সে
ঘটনার ৬০ বছর পর ছবিটির একটি রিল খুঁজে পেয়েছে ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ অব ইন্ডিয়া (এনএফএআই)।
বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ এ ক্লিপ গত সপ্তাহে খুঁজে পাওয়া যায়।
ক্লিপটিতে দেখা যায়, কম্পোজার শঙ্কর জয়কিষণ পিয়ানো বাজাচ্ছেন এবং অভিনেত্রী শাকিলা নৃত্য পরিবেশন করছেন।
এ
সময় প্লেব্যাক শিল্পী মুকেশ ‘অ্যায়
পেয়াসে দিল বেজুবান’
গানটি গাইছেন।
‘জনসাধারণ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ছবি বেগুনাহর এই রিল হন্য হয়ে সন্ধান করছে।
এ
আবিষ্কার সত্যিই অবিশ্বাস্য’—ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ অব ইন্ডিয়ার পরিচালক প্রকাশ মাগদুম সংবাদমাধ্যম পিটিআইকে বলেন এ কথা।
১৯৫৭ সালে মুক্তি পায় বেগুনাহ।
এর
পর
ছবিটি নিয়ে প্যারামাউন্ট পিকচার্স আমেরিকার সঙ্গে জটিলতা সৃষ্টি হয়।
প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছিল বেগুনাহ ১৯৫৪ সালে নির্মিত তাদের ছবি নক অন উড এর নকল।
শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতে গড়ায় এবং প্যারামাউন্ট ছবিটির স্বত্ব পায়।
একই সময় মুম্বাই হাইকোর্ট বেগুনাহর যাবতীয় প্রিন্ট বিনষ্ট করার আদেশ দেন।
ধারণা করা হয়েছিল, উচ্চ আদালতের আদেশ অনুসারে ছবিটির সব প্রিন্ট বিনষ্ট করা হয়েছে।
কিন্তু মাগদুমের বিশ্বাস, এর পরও কিছুসংখ্যক রিল কোথাও না কোথাও ঠিকই টিকে আছে।
‘আমরা ভারতের সিনেমাপ্রেমীদের কাছ থেকে রিলগুলো পেয়েছি’—বলেন প্রকাশ মাগদুম।
এ সময় প্রকাশ আরো জানান, মিউজিক কম্পোজার শঙ্কর জয়কিষণও দীর্ঘ সময় ধরে এ ফুটেজগুলো খুঁজেছিলেন।
কারণ এটিই একমাত্র ছবি, যেখানে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন।
‘আমাদের কাছে ৬০ থেকে ৭০ মিনিটের দুটি পর্যায়ের কিশোর কুমারের চলচ্চিত্র বেগুনাহর দুটি ১১ মিলিমিটার রিল রয়েছে।
এর
একটি মাস দুয়েক আগে পেয়েছি এবং আরেকটি গত সপ্তাহে।
দ্বিতীয় রিলটিতে ‘অ্যায়
পেয়াসে দিল বেজুবান’
গানটি রয়েছে।
এতে দেখা যায়, জয়কিষণ পিয়ানো বাজাচ্ছেন এবং অভিনেত্রী শাকিলা নৃত্য পরিবেশন করছেন।
গানটি গেয়েছিলেন মুকেশ’—বলেন মাগদুম।
অবশ্য খুঁজে পাওয়া রিলের অবস্থা খুব বেশি ভালো নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে নিশ্চিত করেছেন গানটি এখন পর্যন্ত চালানো যাচ্ছে।
‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ মিনিট দৈর্ঘ্যের পুরো ফুটেজগুলোর অবস্থা খুব বেশি ভালো নেই কিন্তু এর ওই গানটি ভালো আছে এবং এটি চালানো যাচ্ছে।’
মুকেশের অ্যায় পেয়াসে দিল বেজুবানে সংগীত পরিচালক জয়কিষণের দৃশ্যটি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল এবং এখনো গানটি শোনা হয়।
এদিকে ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ আদালত থেকে একটি রায়ের অনুলিপি পাওয়ার চেষ্টা করছে।
কিন্তু বিষয়টি খুবই কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।
‘তারা বলেছে, যতক্ষণ না আমরা বিস্তারিত তথ্য যেমন রায়ের তারিখ ও যে আদালতে মামলার শুনানি হয়েছিল, তার নাম না জানাব ততক্ষণ পর্যন্ত এটি খুঁজে পাওয়া তাদের জন্য খুবই দুঃসাধ্য।
আমরা আমাদের আইনজীবী বন্ধুদের দিয়ে সে সময়ের বিভিন্ন নথি যাচাই-বাছাই করে তা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করেছি।
কিন্তু তারা প্রয়োজনীয় সে রায়ের কপিটির সন্ধান করতে পারেননি।
এ
নিয়ে অল্পকিছু সংবাদও ম্যাগাজিনে আছে’—বলেন ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র আর্কাইভের এ পরিচালক।
সূত্র: ডেকান ক্রনিক্যালস










