কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহাপ্রয়াণ দিবস উপলক্ষে প্রকাশ পাচ্ছে বিশেষ সংগীতচিত্র শ্রাবণের ধারার মত। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন বাংলা সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি ড. রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও এ প্রজন্মের রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী স্বপ্নীল সজীব।
গানচিত্রটির ভাবনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন স্বপ্নীল সজীব নিজেই। সংগীতায়োজন করেছেন নীলাঞ্জন ঘোষ। এতে রবীন্দ্রনাথের গান শ্রাবণের ধারার মতর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘বিথিকা’ ও ‘গীতাঞ্জলি’ থেকে নির্বাচিত কবিতার পঙ্ক্তিমালা। আবৃত্তি করেছেন নন্দিত শিল্পী সামিউল ইসলাম পোলাক।
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, ‘গানটি গাওয়ার সময় মনে হয়েছিল, যেন ভেতরের এক স্তব্ধ প্রার্থনা জেগে উঠছে। রবীন্দ্রনাথ শুধু সুরের কবি নন, তিনি হৃদয়ের নিঃশব্দতারও কবি—এ গানচিত্রে সেটাই তুলে ধরতে চেয়েছি। শ্রাবণ তো এক ধ্যান, এক নিবেদন। গভীর শ্রদ্ধায় আমি এ গান উৎসর্গ করেছি কবিগুরুকে।’
স্বপ্নীল সজীব বলেন, ‘আমি চেয়েছিলাম, শ্রোতারা যেন গানটা শুধু না শোনেন—যেন অনুভবও করেন। শ্রাবণের ধারার মত যে ভেজা-কান্না, সে মনের অনুভবটাই যেন উঠে আসে শব্দ, সুর আর কবিতায়। বন্যাদি সঙ্গে থাকায় এ যাত্রা আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্মান হয়ে উঠেছে।’
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা—বাংলা সংগীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ ফিরে আসেন জীবন্ত আবেগে। স্বাধীনতা পদক (বাংলাদেশ) ও পদ্মশ্রী (ভারত)–বিজয়ী এ শিল্পী রবীন্দ্রসংগীতকে আধুনিক যুগে পৌঁছে দিয়েছেন নতুন রূপে।
স্বপ্নীল সজীব—এ সময়ের আন্তর্জাতিক মঞ্চে রবীন্দ্রসংগীতের উজ্জ্বল মুখ। জাতিসংঘের যুব প্রতিনিধি প্রোগ্রামে আমন্ত্রিত প্রথম বাংলাদেশী গায়ক তিনি। পেয়েছেন ভারতের টেলি সিনে অ্যাওয়ার্ড, দুবাইয়ের গ্লোবাল মিউজিক অ্যাওয়ার্ড ও নেপালের ইন্টারন্যাশনাল আইকনিক অ্যাওয়ার্ড। শ্রাবণের ধারার মত শুধু একটি সংগীতচিত্র নয়, এটি এক আধ্যাত্মিক সংগীতযাত্রা—যেখানে সুর, শব্দ ও নীরবতার মাঝে প্রকাশ পায় এক গভীর আত্মসমর্পণ। শ্রাবণের ভেজা দিনে এটি শ্রোতার মনে জাগিয়ে তোলে নিঃশব্দ এক প্রার্থনা, যেখানে সংগীতই হয়ে ওঠে ধ্যানের আরেক নাম।










