ওপার বাংলার অভিনেতা শ্যাম ভট্টাচার্য। ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘বরবাদ’ সিনেমায় শাকিব খানের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জিল্লুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিল্লুকে নিয়ে মাতামাতি হচ্ছে বেশ। বরবাদের এ অভিনেতার সঙ্গে কথা হয়েছে বণিক বার্তার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান
বরবাদ সিনেমায় আপনি যুক্ত হলেন কীভাবে?
বরবাদ সিনেমার সঙ্গে আমি খুব লাকিলি যুক্ত হই। সিনেমাটিতে অভিনয়ের ব্যাপারে আমার কাছে ফোনটা হঠাৎই আসে। আমি যে চরিত্রে অভিনয় করেছি এ চরিত্রে যিনি ফিক্সড হয়েছিলেন, তাকে নিয়ে এগোনোর প্ল্যান নষ্ট হয়ে যায় ‘বরবাদ’ টিমের। যার কারণে তখন আমার কাছে লাকিলি ফোনটা আসে এবং শুনি সিনেমাটিতে শাকিব খান আছেন, এছাড়া বরবাদের শুট মুম্বাইয়ে হবে, সব শুনে আমি হ্যাঁ বলে দিই। তারপর বরবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাই।
সিনেমাটিতে আপনার চরিত্র মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে, এ নিয়ে আপনার অনুভূতি জানতে চাচ্ছি।
ভগবানের আশীর্বাদে ক্যারেকটারটা হিট করে গেছে। এর অনেকটা ক্রেডিট যায় শাকিব স্যার আর মেহেদী হাসান হৃদয়ের। কারণ বরবাদে যেভাবে জিল্লুকে দেখানো হয়েছে, দর্শকের মাঝে ক্যারেকটারটার একটা প্রভাব পড়েছে। প্রতিটা অভিনয়শিল্পীর ইচ্ছা থাকে দর্শকের প্রশংসা পাওয়া। দর্শক প্রশংসা করছে আমি অনেক খুশি। দর্শক ওই লেভেলে জিল্লুকে তুলে ধরবে, সেটার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা যদি শেয়ার করতেন...
শাকিব খানের সঙ্গে প্লাটফর্ম শেয়ার করা একটা ভাগ্যের ব্যাপার। বরবাদের মাধ্যমে সে ভাগ্যটা আমার হয়। এজন্য আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। শাকিব স্যারের সঙ্গে কাজ করার অনুভূতিটাই আলাদা। তার কাজের প্রতি যে ডেডিকেশন থাকে, এটা সবার ওপর প্রভাব পড়ে। সবাই তাকে দেখে উৎসাহ পায়। তিনি সবাইকে হাসায় এবং বেশ মজার সঙ্গে কাজটাও করে।
মানুষের মুখে মুখে জিল্লু চরিত্রটি থাকবে, এটা ভেবেছিলেন কিনা?
এভাবে মানুষের মুখে মুখে জিল্লু চরিত্রটি থাকবে, এটা ভাবিনি। বরবাদ নিয়ে আমি শিউর ছিলাম যে কাজটা ভালো দাঁড়াচ্ছে। হৃদয় ভাইয়ের প্রতি বিশ্বাস ছিল। সেটা হাড়ে হাড়ে প্রমাণ করেছেন। জিল্লু মাল দে ট্যাগলাইনটা হিট হয়ে যাবে আশা করিনি কখনো। ব্যাপারটা খুব এনজয় করছি। সবাই আমার পোস্টে কমেন্ট করছে জিল্লু মাল দে।
বরবাদ সিনেমার আগে আপনার অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে যদি পাঠকদের জানাতেন
আমি অভিনয় করছি অনেক দিন ধরেই। ছোট থেকেই নাটক করি। আমার পরিবারে আমার দাদা অভিনেতা। আমার দাদাকে দেখেই অভিনয়টাকে পেশা হিসেবে নিই। আমার মা-বাবারও অনেক সাপোর্ট ছিল। হঠাৎ একদিন সিদ্ধান্ত নিই যে আমি নাটক করব। আমি স্কুল, পাড়ায় নাটক করেছি। চাকরি করার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু করা হয়নি। যখন অভিনয় করা শুরু করি, তখন ভগবান আমাকে এসবিএফ প্রযোজিত ‘দুপুর ঠাকুরপো’র সিজন থ্রিতে কাজের সুযোগ করে দেয়। এটা আমার প্রথম কাজ ছিল, খুব মজার সঙ্গে কাজটা হয়। এটা হওয়ার পর লক ডাউন হয়ে যায়। তেমন হিট হয়নি সেটি। লক ডাউনের পর ‘মন মানে না’ ধারাবাহিকে কাজ করি। তারপর ‘মন ফাগুন’। এরপর ‘রামকৃষ্ণ’, ‘নয়নতারা’, ‘মিঠাই’ এ ধারাবাহিকগুলোয় কাজ করি। এভাবেই সিরিয়ালের জগতে ঢুকে পড়ি। এছাড়া ‘সেন্টিমেন্টাল’ নামে একটি সিনেমায়ও কাজ করেছি। এরপর টুকটাক কাজ করতে করতে বরবাদটা এসে পড়ে। আমি খুবই নতুন। আরো অনেক কাজ করার বাকি আছে। অনেক কিছু শেখা বাকি আছে।










