আগামী বছরের অস্কার নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন সংস্করণে বেশকিছু নিয়ম পরিবর্তন করেছে কমিটি। এ নিয়মের সঙ্গে কেউ মানিয়ে নিয়েছেন আবার কেউ সমালোচনা করছেন। সম্প্রতি অস্কার কমিটির সমালোচনা করলেন অভিনেতা শন পেন। তার মতে, অস্কার কমিটি তাদের নিয়মের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। মারাকেশ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তিনি এ নিয়ে কথা বলেন।

শন পেন মারাকেশ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তার বর্ণময় ক্যারিয়ারের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন। সেখানে কথা প্রসঙ্গে অস্কারের বিষয়টি আসে। তিনি বলেন, ‘মানুষ নানা ধরনের কথাই বলে। সে নিজেকে প্রকাশ করতে চায়। দুনিয়াটা অনেক বড়। কিন্তু একাডেমি সেই বৃহৎ দুনিয়ার নিজেকে প্রকাশ করার বিষয়টি মেনে নেয়ার ক্ষেত্রে কাপুরুষোচিত পরিচয় দিয়েছে। এমনকি তারা নিজেদের জারি করা নিয়মের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্কৃতির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা বা সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে।’

তিনি এ-ও বলেন যে অস্কারকে এখন একটা টেলিভিশন প্রোগ্রাম হিসেবেই দেখা উচিত। এটি শিল্পের মান নির্ণয় বা প্রকাশ করার মতো যোগ্যতা এখন আর রাখে না।

শন পেন বলেন, ‘নানা ধরনের সিনেমাই নির্মাণ হয়েছে এ বছর। দ্য ফ্লোরিডা প্রজেক্ট, আই অ্যাম স্টিল হিয়ার, এমিলিয়া পেরেজের মতো সিনেমা হচ্ছে। আলী আব্বাসী নির্মিত দি অ্যাপ্রেন্টিস নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কোনোকিছু বাদ দেয়া তো এত সহজ কিছু না।’

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে নির্মিত সিনেমার জন্য অস্কার কমিটি বিব্রত। কিন্তু সেটাকে সিনেমা হিসেবে দেখলে বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে না পারলে অস্কার কমিটি তাদের কাজে ব্যর্থ বলে মনে করেন পেন।

অভিনেতাকে আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়েছে মারাকেশে। তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন ইতালির অভিনেতা ভ্যালেরিয়া গোলিনো। এ সময় মারাকেশ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালকে ধন্যবাদ দিয়ে পেন বলেন, ‘পৃথিবী নিজেই বৈচিত্র্য চায় এবং তা পছন্দ করে। সেটা ভাষায় হতে পারে, আবার মতেও। সেই সঙ্গে আমি আপনাদের বলব, মন যেভাবে চায় সেভাবেই নিজেকে প্রকাশ করুন। সবসময় পলিটিকালি কারেক্ট থাকার প্রয়োজন নেই। আপনাদের গল্পগুলো প্রকাশ হওয়াই বড় ব্যাপার।’

সূত্র: ডেডলাইন