নিজের নির্মাণ দিয়ে ক্যারিয়ারের শুরুতেই চমক দিয়েছিলেন সৈয়দ আহমেদ শাওকী। তার পরিচালিত ‘তাকদীর’ এখনো দেশের জনপ্রিয় সিরিজ। ২০২২ সালে স্ট্রিম হওয়া ‘কারাগার’ও আছে দর্শকের পছন্দের তালিকায়। এবার তিনি আনছেন ‘গুলমোহর’। আহমেদ শাওকীর সঙ্গে বণিক বার্তার কথা হলো গুলমোহর, তার নির্মাণ-ভাবনা ও দেশীয় ওটিটি প্লাটফর্মের কাজের ধারা নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদুর রহমান
গুলমোহর গল্পের শুরুটা জানতে চাই।
গুলমোহর নামটাই ইউনিক। একটা গাছের নাম, কৃষ্ণচূড়ার মতো একটা গাছ। গল্পটা একটা পরিবারের গল্প। এ পরিবারের প্রধান ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার সম্পত্তি নিয়ে একটা দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। আমাদের দেশের খুব পরিচিত গল্প। মূল গল্পে এ বাড়ি থেকে একটা শিশু কিডন্যাপ হয়। কিডন্যাপের যে মুক্তিপণ, সেটা ওই সম্পত্তির সমমূল্যের। এটা নিয়ে একেক জনের ভেতর সন্দেহ জাগে যে বাড়ির মূল্য কিডন্যাপার কীভাবে জানে? তাহলে কিডন্যাপার কে? এটা সিরিজের প্রথম সিন।
সিরিজটির ট্রেলার দেখে মনে হলো গল্প একটা টাইমলাইনে নয়। গল্পটা কি আসলে একটা টাইমলাইনেই, নাকি একাধিক টাইমলাইনে?
মূল গল্পটা একটা টাইমলাইনেই। কিছু ফ্ল্যাশব্যাক ব্যবহার করা হয়েছে কনটেক্স বোঝার জন্য। কিন্তু মূল গল্পটা একটা সিঙ্গেল টাইমলাইনে।
গুলমোহরের গল্প নিয়ে আপনি কাজ শুরু করেছেন কবে? শুটিং কবে, কোথায় হয়েছে?
মূল গল্পটা কারাগার করার আগের ভাবনা। চরকি যখন প্রথম লঞ্চ হয়, তখন তাদের খুব আগ্রহ ছিল আমার সঙ্গে কাজ করার। তখনই গল্পটা পিচ করি। চরকিরও মনে হয়েছে যে এ গল্প বাংলাদেশের মানুষ রিলেট করতে পারবে। কারণ আমাদের দেশের প্রতিটি পরিবারেই এমন ঘটনা ঘটে। একটা কথা এখানে বলতে হয়, যখন আমাদের দেশে ওটিটি এল, তখন আমরা ওয়েস্টার্ন মডেলে গল্প বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু যদি আমরা আমাদের গল্পকে দেশীয় ধাঁচে বলার চেষ্টা করি, তাহলে দেশের মানুষসহ ভিন্ন দেশে আমাদের কনটেন্ট পছন্দ করবে এবং আগ্রহ দেখাবে। গুলমোহর সে রকমই গল্প।
মূলত কারাগার শেষ করার পর এর গল্পটা লেখা শুরু করি। শুটিং গত বছর ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়েছে। দেশের অনেক জায়গায় শুটিং হয়েছে। পঞ্চগড়, সৈয়দপুর, দিনাজপুরে শুট করেছি।
সিরিজে দেখানো মূল বাড়িটি কোথায় ছিল?
এটা নবাবগঞ্জ দোহারে।
গুলমোহরে অনেক চরিত্র রয়েছে। পাশাপাশি গল্প ও চরিত্রগুলো জটিলও। যখন কাস্টিংয়ের চিন্তা করলেন, তখন চরিত্র অনুসারে সেটা কীভাবে করলেন?
আমার প্রধান ভাবনা ছিল পরিবারটাকে কাস্ট করা। পরিবারকে কাস্ট করতে হলে আগে ভাইবোন ও মাকে মেলাতে হয়েছে। এ অংশের শুটিং ব্যয়বহুল ছিল, চলেছে অনেক দিন ধরে। সিরিজটিতে ইন্তেখাব দিনারকে সেন্টারে রেখে পুরো কাস্টিংটা করা হয়েছে। জিসান কারাগার সিরিজে ছিল। সেখান থেকে ওকে নেয়া। মোস্তাফিজুর নূর ইমরানের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ ছিল আমার অনেক দিন ধরে। দারুণ অভিনেতা সে। ডিরেক্টর হিসেবে আমার লোভ ছিল যে তার সঙ্গে কাজ করব। সারিকা সাবাহর কাস্টিং অডিশনের মাধ্যমে। সারা জাকেরের বিষয়টা ছিল যে আমরা সাধারণত রেগুলার মা হিসেবে যাদের দেখি, তা থেকে একটু ডিফারেন্ট ফেস চাচ্ছিলাম। সেখান থেকেই তাকে নেয়া। শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় অনেক পরে কাস্ট হয়েছে। তিনি যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন, এর জন্য ওপার বাংলার একজন শিল্পীর দরকার ছিল। অনেকের সঙ্গে ব্যাটেবলে মেলেনি। শেষ পর্যন্ত আমরা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কে লক করতে পেরেছি।
গুলমোহর তো আসছে। এরপর আপনার কী কাজ পাচ্ছি?
এ মুহূর্তে একটা সিরিজ লিখছি। সেটা আমি পরিচালনা করব না, প্রযোজনা করব। আশা করি এ বছরই আমার লেখা আরেকটি সিরিজ আসবে। পাশাপাশি কিছু সিরিজ আমার ফিল্ম সিন্ডিকেট থেকে প্রযোজনা করছি, যেগুলো এ বছরই মুক্তি পেতে পারে। আমার ডিরেকশনের পরিকল্পনা আপাতত এ বছর নেই। আগামী বছর হতে পারে, তবে সেটার এখনো কোনো পরিকল্পনা করিনি।
ওটিটি নিয়ে একটা কথা বলছিলেন যে পশ্চিমা ধারার কাজ করা হয় বেশি। সেখান থেকেই জিজ্ঞেস করি, বর্তমানে বাংলাদেশের ওটিটি প্লাটফর্ম নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
বাংলাদেশে ওটিটি বেশ কয়েক বছর হয়ে গেছে। ২০১৮-তে ‘ঢাকা মেট্রো’ তারপর ২০২০-এ ‘তাকদীর’। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় সাত বছর। এ সময়ে ওটিটিতে অনেক উত্থান-পতন দেখেছি।
ওটিটিতে একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি হতে থাকে। ওই জায়গা থেকে বের হয়ে এ প্লাটফর্মকে যদি আরো সামনে নিয়ে যেতে হয় তাহলে শুধু স্বতন্ত্র গল্প বললেই হবে না, নির্মাতাদেরও খুঁজতে হবে। আমাদের ভিন্ন ধারার নির্মাতা আছেন, যারা কিছু বলতে চান। তাদের সামনে আনতে হবে। ওটিটিতেও ন্যারেটিভ স্টাইল ও নতুন স্টোরি খুঁজে বের করতে হবে। তাহলেই মার্কেটটা গ্রো করবে।










