সাংবাদিক ও স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা গোলাম রাব্বানী। তার নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নিশি’। চা বাগানের পরিবেশ বাস্তবতার ওপর নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি এনভায়রনমেন্টাল মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন অ্যাওয়ার্ডের (এমা অ্যাওয়ার্ড) ৩৫তম আসরে পুরস্কৃত হয়েছে। নিশির অভিজ্ঞতা, স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণ, এর চ্যালেঞ্জ ইত্যাদি নিয়ে বণিক বার্তার কথা হয়েছে গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদুর রহমান
চা বাগানের মানুষ, তাদের জীবনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে নিশি নির্মাণ করলেন। এ গল্প বেছে নিলেন কখন?
মূলত আমরা ১০ দিনের একটা ওয়ার্কশপে গিয়েছিলাম। ২০২৪-এর মার্চে সিলেটে এ ‘ইকো ফিল্ম ল্যাব’ হয়েছিল। এর একটা অংশ ছিল শর্টফিল্ম নির্মাণ করতে হবে। তবে গল্পটা অর্গানিক হতে হবে। স্থানীয় গল্প, স্থানীয় আর্টিস্ট নিয়ে বানাতে হবে। তো গল্পের খোঁজে একদিন একা একা হাঁটছিলাম। তখন দেখলাম, চা বাগানের একটা দীর্ঘ রাস্তা দিয়ে দুই বোন হেঁটে যাচ্ছে। তারা টিলার ওপর কোথাও একটা টিউবওয়েল থেকে পানি নিয়ে আসছিল। বিষয়টা আমাকে নাড়া দিল। তারপর এখান থেকেই একটা গল্প তৈরি করার চিন্তা করেছিলাম। পরে চা বাগানের নানা পল্লীতে ঘুরে পুরো গল্পটা তৈরি হয়।

তাহলে নিশি নিয়ে আপনি কাজ করলেন কতদিন? কীভাবে হলো কাজটা?
সিনেমাটা বানানোর জন্য আসলে সময় পেয়েছিলাম দেড়দিন। এরপর প্যাচওয়ার্কের জন্য আধাদিন। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দুটো। কোনো এক্সট্রা লাইট ব্যবহার করা যাবে না আর প্রফেশনাল আর্টিস্ট দিয়ে কাজ করানো যাবে না। এটাই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আসলে। তবে কাজটা সর্বোচ্চ পরিশ্রম দিয়ে করেছি। আমার সহপরিচালক ছিলেন জহিরুল ইসলাম ভাই। তিনি ব্যস্ততার মধ্যে সহযোগিতা করেছেন।
স্বাধীন চলচ্চিত্র নিয়ে দেশে অনেকেই কাজ করছেন। সিনেমাটি দেশের বাইরে বা বিভিন্ন উৎসবে পাঠানোর প্রক্রিয়াটা আগ্রহীদের জানাবেন?
হ্যাঁ, অবশ্যই। অনেক সময় সিনেমার প্রযোজকরাই পাঠান। যেমন নিশি পাঠাচ্ছেন এর প্রযোজকরা। তবে আমি আগে যে তিনটা শর্ট বানাই, তা নিজেই পাঠিয়েছিলাম। ফিল্ম ফ্রি নামে একটা সাইট আছে। সেখানে বিভিন্ন উৎসবের ডিটেল দেয়া থাকে। সাবমিশন গাইডলাইন থাকে। সে অনুসারে সহজেই সিনেমা পাঠানো যায়। তবে উৎসবভেদে সিনেমার লেন্থ, বিষয় ইত্যাদির ক্রাইটেরিয়া আলাদা হয়। নিয়ম মেনে সিনেমা পাঠানো জরুরি।
আপনি একজন স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা। এক্ষেত্রে সিনেমা নির্মাণে চ্যালেঞ্জ কী এবং উত্তরণের জন্য কী করা যেতে পারে বলে মনে করেন?
স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের চ্যালেঞ্জটা প্রথমত নিজের সঙ্গে নিজের। কেননা তিনি প্রথমেই নিজেকে স্বাধীন দাবি করছেন। নিজের মতো তাকে কাজটা করতে হবে। এর পরই আসে চলচ্চিত্র নির্মাণে অর্থের জোগান। স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারা যে ধরনের গল্প নিয়ে কাজ করেন, তাতে বাণিজ্যিক সিনেমায় বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হন না। ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ থাকলে সেটা সহজ হবে। এছাড়া স্বাধীন চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জায়গার অভাব আছে। সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যবস্থা নেই। স্বাধীন চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। মাল্টিপ্লেক্সগুলো যদি তাদের অনেক স্ক্রিনের মধ্যে একটা স্ক্রিনে এ ধরনের সিনেমা প্রদর্শনের ব্যবস্থা নিতে পারে, তাহলে সিনেমাগুলো দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়া যাবে।










