বিশিষ্ট নজরুল সংগীতশিল্পী ও নজরুল গবেষক সুজিত মোস্তফা। নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের গান ও চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি সংগীত ও সংগীতশিল্পীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছেন তিনি। সম্প্রতি তার ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে সংগীত শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল রেকর্ডিং টেকনোলজির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার জন্য একটা ক্লাসের প্রজেক্ট শুরু করার বিষয়টি জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘‍আজকাল যারা ট্র্যাডিশনাল বা ঐতিহ্যবাহী সিরিয়াস ধরনের গানগুলো একটু ভালো গাইছেন, তারা অনেকেই গাইবার প্লাটফর্ম পাচ্ছেন না। এটা অবশ্য বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মোটামুটি পুরনো গল্প। করপোরেট শোগুলোয় ধামাকা শিল্পীদের পদচারণা বেশি। সিরিয়াস ভালো গানের শ্রোতা নেই, নেই ক্রেতা। ফলে আমাদের মূল ঘরানার গান গাইতে গেলে ভালোবেসেই গাইতে হচ্ছে। সে গান গেয়ে নাম বা অর্থ কোনোটাই প্রত্যাশা করা যাবে না। কিন্তু তার পরও তো মানুষকে জানাতে হবে। ভালো জিনিস লুকিয়ে রাখলে তো হবে না। ভালো গান সামনে আনা মানে বাজারে আনা বা মার্কেটিং করা। বাজার মানে তো এখন ইউটিউব বা ফেসবুক। একটা গান তৈরি করতে গেলে অডিওর খরচ আছে, ভিডিওর খরচ আছে এবং এক-দুটো কনটেন্ট তৈরি করে শ্রোতার মনোযোগ আকর্ষণ করা কঠিন। ক্রমাগত কনটেন্ট দিয়ে যেতে হয়। সংগীত শেখাটাই যেখানে এখন অনেকের পক্ষে অর্থনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে গেছে, সেখানে কনটেন্ট তৈরি করা বেশির ভাগ সংগীত কর্মীর পক্ষেই সম্ভব নয়। আমার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য গিটার ক্লাসটা বাধ্যতামূলক করেছি এ কারণেই যে তাদের সংগীতবোধের আরো অনেকগুলো দরজা-জানালা যেন খুলে যায় এবং তারা যেন গিটারটাকে গানের সঙ্গে ব্যবহার করতে শেখে। আজকাল খুবই কম খরচে একটা ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটারে একটা সাধারণ সাউন্ড কার্ড ও মাইক্রোফোন-জুড়ে নিজের ঘরেই নিজের গান রেকর্ড করে ফেলা যায়। তাই এখন গিটারের পাশাপাশি আমি আমার শিশুদের ডিজিটাল রেকর্ডিং টেকনোলজির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার জন্য একটা ক্লাসের প্রজেক্ট নিয়েছি। আশা করছি, জানুয়ারি থেকে একজন ভালো সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারের সহায়তা নিয়ে আমার স্টুডিওতে আটজন করে ছেলেমেয়ের একটি গ্রুপ করে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু করব।’

এ বিষয়ে সুজিত মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কর্মশালাটি হবে চারদিনের, যেখানে ন্যূনতম প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। অনেকটা ব্যক্তিগত উদ্যোগেই সংগীতশিল্পীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য এ প্রজেক্টের কাজ তিনি শুরু করেছেন, যেখানে কর্মশালাটি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারলে বিভিন্নভাবে আয়ের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন।