অ্যানিমেশনের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যবসাসফল সিনেমার নাম এখন ‘নে ঝা টু’। মোটে ৮ কোটি ডলার বাজেটে তৈরি। অথচ বক্স অফিসে অনায়াসে ভেঙে চলছে রেকর্ড। যেন হলিউডের বাঘা বাঘা বাজেটের সিনেমার জন্য বিস্ময় ছুড়ে দিয়ে উদাহরণ স্থাপন করতে চাচ্ছে চৈনিক সিনেমা। শনিবার পর্যন্ত বক্স অফিস থেকে নে ঝা টুর ঝুলিতে উঠেছে ১৭৭ কোটি ডলার। ব্যবসাসফল সিনেমার ইতিহাসে নে ঝা টুর অবস্থান এখন অষ্টম। আমেরিকার বাইরে ও আরো বড় পরিসরে বললে ইংরেজি ভাষার বাইরে প্রথমবারের মতো কোনো অ্যানিমেটেড সিনেমা এ গৌরব অর্জন করল। এটি বৈশ্বিক অ্যানিমেশন শিল্পের সামনে প্রমাণ করে এশিয়ার সক্ষমতা।
চীনের বক্স অফিস ট্র্যাকার প্লাটফর্ম মাওইয়ানের পূর্বাভাস অনুসারে, সিনেমাটি কেবল চীনেই ২০০ কোটি ডলার আয়ের মাইলফলক অতিক্রম করবে। আর সেটা হলে নে ঝা টু ছাড়িয়ে যাবে হলিউডের দুই ব্যবসাসফল সিনেমা ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ এবং ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেনস’। পরিণত হবে সর্বকালের শীর্ষ পাঁচটি সিনেমার একটিতে। এর মধ্যেই মহামারী-পরবর্তী সবচেয়ে সফল তিনটি সিনেমার একটিতে পরিণত হয়েছে। বাকি দুটি সিনেমা হলো ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ ও ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’।
এক বালকের জাদুকরী শক্তি দিয়ে দানবদের বিরুদ্ধে লড়াই করার গল্প নিয়ে নির্মিত নে ঝা টু। চীনা পুরাণের জনপ্রিয় চরিত্র নে ঝাকে ভিত্তি করে নির্মিত সিনেমাটি। এর আগে ২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘নে ঝা’ সিনেমার সিকুয়াল। প্রথম কিস্তি ৭৩ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছিল। এটি সফল ছিল, কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিসরে দ্বিতীয় কিস্তির ফল সুদূরপ্রসারী। ২০২১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য ব্যাটল অ্যাট লেক চ্যাংজিন’ সিনেমার রেকর্ড ভেঙেছে নেঝা টু।
দেশের বিশাল বাজার থাকা সত্ত্বেও হলিউডের তুলনায় পিছিয়ে ছিল চীনের চলচ্চিত্র শিল্প। অন্তত সেখানকার নির্মাতা ও শিল্পীরা সেটাই মনে করেন। নে ঝার মুক্তি তাই দেশটিতে চলচ্চিত্রের উন্নতির প্রতীক হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে। আইএমডিবির এক রিভিউতে বলা হয়েছে, ‘এটি শুধু চীনা অ্যানিমেশনের শক্তিশালী উত্থানকে নয়, আধুনিক প্রেক্ষাপটে ঐতিহ্যবাহী চীনা পুরাণের অসীম সম্ভাবনাও তুলে ধরে।’
চান্দ্র নববর্ষের সময় চীনে সিনেমার টিকিট বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এবারের উৎসব মৌসুমে দেশীয় চলচ্চিত্রগুলো ১৩০ কোটি ডলার আয় করেছে। নে ঝার দ্বিতীয় কিস্তি শুধু চীনের বক্স অফিসে নতুন রেকর্ডই গড়েনি, প্রথম সিনেমা হিসেবে একক বাজারে ১০০ কোটি ডলার আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। চিত্রনাট্য ও ভিজুয়াল ইফেক্টের জন্য প্রশংসা পাচ্ছেন নির্মাতা উ ইয়াং। সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রের মডেলও বিক্রি হয়ে যাচ্ছে দ্রুত।
সূত্র: ডেডলাইন










