ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সেরা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গোল্ডমাইনস। মনীশ শাহ এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান। বহু ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় সিনেমার পেছনে আছে গোল্ডমাইনসের নাম। মনীশ শাহ কেবল ইন্ডাস্ট্রির অংশই নন, তিনি এর বহু বদলেরও রূপকার। বিশেষত দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার ক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বহু সিনেমা ডাবিং করে হিন্দিভাষী অঞ্চলে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি ও তার প্রতিষ্ঠান। ২০২১ সালে তিনি পুষ্পার প্রযোজনায় যুক্ত হন। সিনেমাটি মুক্তির আগে কেউ জানত না এতটা জনপ্রিয় হবে। মনীশ সে ঝুঁকি নিয়েছিলেন। এখন সবাই জানেন, পুষ্পার মধ্য দিয়ে আল্লু অর্জুন প্যান ইন্ডিয়ান সুপারস্টারে পরিণত হন। কিন্তু পুষ্পা টু থেকে সরে গেছেন মনীশ।

২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মৈত্রী মুভি মেকারস গোল্ডমাইনসের কাছে পুষ্পার ডিজিটাল ও স্যাটেলাইট রাইট থেকে লভ্যাংশ চেয়েছিল। কিন্তু মনীশ শাহ রাজি হননি। তার মতে, মৈত্রীর বরং তার কাছে কৃতজ্ঞ থাকা উচিত, কেননা গোল্ডমাইনসের কারণেই সিনেমাটি হিন্দি ভাষাভাষী অঞ্চলে জনপ্রিয়তা পায়। তাই ডিজিটাল ও স্যাটেলাইট রাইটের ক্ষেত্রে তিনি কোনো ছাড় দিতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে মনীশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বলিউড হাঙ্গামা। তাদের মনীশ বলেন, ‘আমরা মূল্যমানের বিষয়ে একমত হতে পারিনি। দিন শেষে আমরা তো এখানে ব্যবসা করতেই এসেছি। আমি চাইব সর্বোচ্চ ব্যবসাটা করতে। লোকসান হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমি নিতে পারি না।’

এ মতবিরোধের কারণেই পুষ্পা টু হাতছাড়া হয় মনীশের। পুষ্পা টু এখন ভারতের অন্যতম সেরা ব্যবসাসফল সিনেমা। গত বছর ইন্ডাস্ট্রির মোট আয়ের একটা বড় অংশ এসেছে এ সিনেমা থেকে। সেটি হাতছাড়া হওয়া নিয়ে আফসোস আছে কিনা জানতে চাইলে মনীশ বলেন, ‘আসলে ব্যবসাটা বুদ্ধি খাটিয়ে করতে হয়। মন থেকে এখানে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই।’

ইউটিউবে গোল্ডমাইনসের করা বহু সিনেমার হিন্দি সংস্করণ পাওয়া যায়। এসব সিনেমার আলাদা আবেদন আছে দর্শকের কাছে। প্রতিদিনই প্রচুর ভিউ হয় সিনেমাগুলোর। দক্ষিণের বাজার হিন্দিতে বাড়ার পেছনেও অবদান আছে তাই। এ নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে মনীশ বলেন, ‘আমরা কেবল সিনেমাটা হিন্দিতে ডাব করি না, নিজেদের একটা আলাদা ভার্সন তৈরি করি। সিনেমাটাকে নতুন করে দেখে তাকে দর্শকের জন্য উপস্থাপন করি।’

সূত্র ও ছবি: বলিউড হাঙ্গামা