মালির তিম্বাকতুতে আছে সিদ্দি ইয়াহিয়া মসজিদ। সিদ্দি আফ্রিকার একটি গোষ্ঠী। একটা সময় আফ্রিকা থেকে অনেকে জীবিকা ও অভিযানের টানে ভারতে আসত। কেউ আসত বাধ্য হয়ে। দাক্ষিণাত্যের আহমদনগরের উজির মালিক অম্বর ছিলেন তেমনই একজন। ইথিওপিয়া থেকে দাস হিসেবে এসেছিলেন তিনি। এমন আরো অনেক ইতিহাস আছে। আফ্রিকানরা ভারতের একাংশে পরিচিত হয়েছেন সিদ্দি নামে। তাদের উত্তরাধিকারীরা এখনো আছেন ভারতে। তাদের নিয়ে সিদ্দি কমিউনিটি। এদের বড় একটি অংশ বাস করেন কোঁকনে। তাদের নিয়েই একটি সিনেমা নির্মাণ করেছেন জয়ন চেরিয়ান। সিনেমার নাম রিদম অব দাম্মাম।

উত্তর কর্ণাটকে এক রকম আড়ালেই বাস করে সিদ্দিরা। তাদের আছে নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। জয়ন তার সিনেমায় গল্পের মধ্য দিয়ে এদের নিয়ে আসার চেষ্টা করেছেন। তিনি গল্পটা সাজিয়েছেন জয়রামকে নিয়ে। ১২ বছর বয়সী জয়রামের দাদা মারা গেলে গুপ্তধন নিয়ে তাদের পরিবারে একটা সংকট তৈরি হয়। এ নিয়েই গল্প এগোয়।

জয়রামের মধ্য দিয়ে এ সিনেমায় জয়ন দেখিয়েছেন সিদ্দিদের নিজেকে খোঁজার যাত্রা। জয়রাম যখন তার পরিবারের ভেতরের কিছু জিনিস জানতে পারে, তখন সে আরো খোঁজ শুরু করে। সে খোঁজের মধ্য দিয়ে জানতে পারে আফ্রিকায় তাদের অতীত ইতিহাস ছিল। কেমন করে তারা ভারতে এল আর ভারতে তাদের সংস্কৃতি কীভাবে গড়ে উঠল। দাস ব্যবসা, জমিদারি থেকে শুরু করে আরো বেশকিছু বিষয় উঠে এসেছে এ সিনেমায়।

দাম্মাম মূলত সিদ্দি সম্প্রদায়ের এক ধরনের নাচের নাম। সিদ্দিদের বিভিন্ন উৎসব ও আচারে এ ধারার নাচ পরিবেশন করা হয়। সিনেমায় সিদ্দিদের নানা লোকগল্প, সংগীত ও আচার অনুষ্ঠান নিয়ে এসেছেন পরিচালক। আর সেটা করার জন্য বেশ খাটতে হয়েছে জয়ন চেরিয়ানকে। তিনি বলেন, ‘ওরা যখন পারফর্ম করে, তখন এ নাচকে ক্যামেরায় তোলা সম্ভব নয়। সেজন্য আমি আলাদা সেট করে পরিচালকের মতো তা শুট করিনি। ওদের অনুষ্ঠান চলাকালীন ঘুরে ঘুরে তা রেকর্ড করেছি।’

কেন এমন করলেন বা আলাদা করে সেট কেন তৈরি করা হলো না, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে চেরিয়ান বলেন, ‘আমি নিজের কল্পনা ব্যবহার করে একটা সম্প্রদায়ের আচারকে উপস্থাপন করলে সেখানে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’

চেরিয়ান একজন পরিচালক হওয়ার পাশাপাশি লেখক ও কবি। তিনি এর আগে ২০১৩ সালে ‘পাপিলিও বুদ্ধা’ ও ২০১৬ সালে ‘কা বডিস্কেপস’ নামে সিনেমা নির্মাণ করেন। ২০১৬ সালেই তিনি কর্ণাটকে সিদ্দিদের জনপদে যান। তিনি বলেন, ‘ওই সময় থেকেই সিদ্দিদের সঙ্গে আমি সম্পর্ক তৈরি করি। তাদের বোঝার চেষ্টা করি। সেই সঙ্গে জানার চেষ্টা করি তাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবনযাপন।’

সিদ্দিদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময়ই তিনি চিন্ময় সিদ্দির দেখা পান। তখন তার বয়স ছিল ছয় বছর। তাকেই মূল চরিত্রে কাস্ট করেছেন জয়ন। তিনি বলেন, ‘চিন্ময়ের সঙ্গেই আমার চিত্রনাট্য বেড়ে উঠেছে।’ চিন্ময় ছাড়াও এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন প্রশান্ত সিদ্দি ও গিরিজা সিদ্দি। প্রশান্ত কন্নড় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং গিরিজা একজন থিয়েটার আর্টিস্ট।

২০০৩ সালে সিদ্দিদের শিডিউল কাস্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরা হিন্দু, ইসলাম ও খিস্টধর্মাবলম্বী। জয়ন জানান, একসময় এদের গোয়া থেকে কর্ণাটকে আনা হয়েছিল। তাদের সে ইতিহাসের অনেকটাই তিনি মানুষের সামনে আনতে চেয়েছেন তার সিনেমার মাধ্যমে।

স্ক্রলডটইন অবলম্বনে