এ বছর পহেলা বৈশাখ এসেছে এক নতুন ভোরের বার্তা নিয়ে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিজয়ের আবহেই এসেছে এবারের পহেলা বৈশাখ। ধর্ম-বর্ণ-জাত ভুলে গিয়ে বাঙালিরা যেন তাদের ঐতিহ্যকে নিয়ে সামনে এগোতে পারে, এমটাই প্রত্যাশা শিল্পীদের। বৈশাখ উদযাপন নিয়ে তিনজন সংগীতশিল্পীর কথা হয় বণিক বার্তার সঙ্গে। জানালেন তাদের বৈশাখ নিয়ে পরিকল্পনা। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন তাদের বৈশাখ উদযাপনের স্মৃতি। লিখেছেন অহিদুর রহমান
গানের সঙ্গেই কাটবে এবারের পহেলা বৈশাখ -কোনাল
এ প্রজন্মের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সোমনূর মনির কোনাল। তার এবারের বৈশাখ কেমন কাটবে, জানালেন বণিক বার্তার সঙ্গে আলাপনে। কোনাল তার পহেলা বৈশাখ ব্যস্ততা নিয়ে বলেন, ‘পহেলা বৈশাখে কেরানীগঞ্জে প্রোগ্রাম রয়েছে। সেখানে সবাইকে গান শোনাব। দিনের বেলা বাঙালিদের খাবার-দাবার বা পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে যে আয়োজন থাকে, তা হয়তো থাকবে। চৈত্রসংক্রান্তিতে বের হব, ঘোরাফেরা করব, এভাবেই কাটবে এবারের পহেলা বৈশাখ।
এই পহেলা বৈশাখটা তার কাছে অন্যবারের তুলনায় কোনো পার্থক্য আছে কিনা জানতে চাইলে কোনাল বলেন, ‘প্রতিবার পহেলা বৈশাখে অনুষ্ঠান করি, গান গাই। এবারো তাই করব। আমার কাছে শিল্পী হিসেবে কোনো পার্থক্য দেখছি না। প্রতিবারের মতোই এবারের পহেলা বৈশাখ কাটবে।’
পহেলা বৈশাখ নিয়ে কোনাল তার ভক্তদের উদ্দেশে বলেন, ‘সবাই পহেলা বৈশাখ সুন্দর করে পালন করুন। আমরা একটা জায়গায় দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে এক হয়ে যাই যে আমরা বাঙালি। আমি ভক্তদের উদ্দেশে এটাই বলব যে পৃথিবীর মানুষের কাছে এ উদযাপনটা বিশেষ উদযাপন। সারা পৃথিবী আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। বাঙালিরা কীভাবে এ উদযাপন করছে, বিশ্ববাসী দেখে। দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে পহেলা বৈশাখ সুন্দর করে পালন করুন এটাই প্রত্যাশা।’
আশা করছি এবারের বৈশাখটাও রঙিন হবে -লিজা
সানিয়া সুলতানা লিজা। অন্যতম জনপ্রিয় সুরেলা এ সংগীতশিল্পী। ২০০৮ সালে ‘ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। এবারের পহেলা বৈশাখ নিয়ে লিজার তেমন কোনো আয়োজন নেই। জানালেন, তার পহেলা বৈশাখ কাটবে পরিবারের সঙ্গে। লিজা বলেন, ‘আমি স্পেশাল দিনগুলোয় চেষ্টা করি বাসায় থাকার জন্য। আমার মেয়ে আছে, এটা তার দ্বিতীয় বৈশাখ। প্রথম বৈশাখে সে ছোট ছিল। তখন একদমই ছোট, একমাস বয়স। এবার আমি চিন্তা করেছি, আমার পরিবারের আব্বু, আম্মু, আমার সন্তান, ছোট ভাই সবাই মিলে একসঙ্গে কাটাব। এ বৈশাখে আমি কোনো কাজ নিইনি। তবুও আশা করছি, সব বারের মতো এবারের পহেলা বৈশাখটাও রঙিন হবে।’
শৈশবের পহেলা বৈশাখ নিয়ে লিজা বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের আনন্দটাও ঈদের মতো, বড় হয়ে গেলে আনন্দ কমে যায়। বৈশাখে যেমন সকাল বেলা উঠে র্যালি করা, পান্তা ভাত, ইলিশ খাওয়া। আমরা যেহেতু ময়মনসিংহের মানুষ, ওখানে শুঁটকির ভর্তা করা হতো, এগুলো এখন মিস করি। এখন আগের মতো আর করা হয় না। নিজেদের মতো বাসায় করা হয়।’
বৈশাখ নিয়ে দর্শক-শোতাদের জন্য লিজা বলেন, ‘যে যতটুকু পারি চেষ্টা করব আমাদের ঐতিহ্যটাকে তুলে ধরতে। নিজেদের মধ্যে বাঙালিয়ানা ফুটিয়ে আনা ও সবার উৎসব সুন্দর হোক, রঙিন হোক, এটাই প্রত্যাশা।’
শৈশবের বৈশাখটা একটু বেশি ভালো লাগত -পারশা
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ‘চলো ভুলে যাই’ শিরোনামের একটি গান দিয়ে আলোচনায় আসেন সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণি। আন্দোলনে সাহসের জোগান দিয়েছিল সে গান। শুধু গানেই নয়, অভিনয়ে নজর কাড়েন পারশা। সম্প্রতি ‘ঘুমপরী’ নামক ওয়েব ফিল্মে তানজিন তিশা ও প্রীতমের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। বর্তমানে শোবিজ অঙ্গনে বেশ পরিচিত নাম পারশা। এবারের পহেলা বৈশাখ নিয়ে পারশা বলেন, ‘পহেলা বৈশাখে ১৪ তারিখে মানিক মিয়া এভিনিউতে একটা প্রোগ্রাম আছে। এছাড়া বৈশাখ আমার কাছে সব থেকে পছন্দের মাস। বৈশাখে শাড়ি পরি। ছোটবেলা থেকেই বৈশাখ উদযাপন করতে ভালো লাগে। গত কয়েক বছর রোজার কারণে পহেলা বৈশাখ তেমন ভালোভাবে উদযাপন করতে পারিনি। এবার সবাই একটু ভালোভাবে করার সুযোগ পাচ্ছে। এবার অনেক দিন পর সুন্দর করে পালন করার সুযোগ পাচ্ছি। সে হিসেবে অনেক ভালো লাগছে। এবার মানিক মিয়া এভিনিউতে মন্ত্রণালয়ের প্রোগ্রাম করছি, এটা আমার জন্য বড় পাওয়া।’
বর্তমান আর শৈশবের বৈশাখের সঙ্গে পার্থক্য করে পারশা বলেন, ‘ছোটবেলার বৈশাখ আর এখনকার বৈশাখের মধ্যে একটা তফাত আছে। শৈশবের বৈশাখটা আমার কাছে একটু বেশি ভালো লাগত। তখন একটা উৎসবের আমেজ থাকত। এবার কেমন লাগবে জানি না, তবে আশা করছি ভালোই যাবে।’










