স্ট্রিম হওয়ার পর ফিল্ম ও চরিত্রটি প্রশংসা পাচ্ছে দর্শকের। এর আগেও ‘কালপুরুষ’ ও ‘ভাইরাস’ সিরিজে কাজ করেন তিনি। বণিক বার্তার সঙ্গে আলাপচারিতায় অভিনয়জীবন নিয়ে কথা বলেছেন এ অভিনেতা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদুর রহমান

রবিন চরিত্রটি করে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

পহেলা বৈশাখে মুক্তি পেয়েছে চা গরম। ওয়েব ফিল্মটি দর্শক পছন্দ করছে নানা কারণে। গল্পের কারণে পছন্দ করছে, চরিত্রের কারণেও পছন্দ করছে। সিনেমার লোকেশন, ক্যামেরাওয়ার্ক, সিনেমাটোগ্রাফি সব মিলিয়েই তারা পছন্দ করেছে এটা। ভালো সাড়া আমরা পেয়েছি। আমিও পাচ্ছি। দর্শকের সাড়া পেলেই ভালো লাগে। কাজটা সার্থক মনে হয়। এ পেশায় আমরা যে অনেক বেশি আয় করি, এমন তো না। শুটিংটাও কঠিন একটা কাজ। তারপর দর্শক কাজটা পছন্দ করলে ভালো লাগে। দর্শকের ভালোবাসাই আমাদের পাথেয়।

শুটিংয়ের কথা তুললেন, অভিজ্ঞতা নিয়ে তাহলে কিছু বলুন।

শুটিং আসলে একটা কন্টিনিউয়াস প্রসেসের মতো। অভিনয় তো প্রথাগত কোনো চাকরি না। অফিস টাইম বলেও এখানে কিছু নেই। যেসব দিন শুটিং থাকে, খুব ভোরেই আমাদের উঠতে হয়। সাইটে যেতে হয়। তারপর শুটিং। শেষ কখন হবে, তারও কোনো ধরাবাঁধা সময় নেই। রোদ, গরম, ঝড়, বৃষ্টি, শীত নানা রকম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই আমরা কাজ করি। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রেও কাজ করতে হয়। যেমন রবিন চরিত্রটার কথাই যদি ধরি। সে চা বাগানের মানুষ। সে একটু আলাদা ভাষায় কথা বলে।

এ চরিত্রের জন্য নিজেকে তৈরি করলেন কীভাবে?

সত্যি বলতে এ ফিল্মে অভিনয় করার আগে চা বাগান সম্পর্কে আমার খুব বেশি ধারণা ছিল না। হয়তো ঘুরতে গেছি, বাগান দেখেছি, ছবি তুলেছি। আমরা কোথাও ঘুরতে গেলে তো এগুলোই করি। কিন্তু সেখানকার মানুষ, তাদের জীবন হয়তো দেখি না। আমিও দেখিনি। চিত্রনাট্য পাওয়ার পর মনে হলো বেশকিছু জিনিস জানা দরকার। তখন আমি একটু রিসার্চ করলাম। চা বাগানের মানুষকে জানার চেষ্টা করলাম। তাদের কিছু সাক্ষাৎকার দেখলাম। তখন মনে হলো আমি এ ভাষা আগে শুনেছি। হয়তো চা বাগানের শ্রমিকদের ভাষার কাছাকাছি কোনো ভাষায় কথা বলে এমন মানুষ দেখেছি। সেখান থেকেই বিষয়টা লক্ষ করি। রবিন চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ এলে বিষয়টা আমাকে সাহায্য করেছিল। এছাড়া শুটিং বা পুরো কাজটার সময় আমি ক্যামেরার বাইরেও নিজেকে রবিন বলে মনে করেছি।

আপনার অভিনয়ে আসার শুরুর গল্পটা জানতে চাই।

আমি শুরু করেছিলাম মঞ্চ থেকে। আমার বাড়ি কুষ্টিয়ায়, সেখানেই করেছি। বিষয়টা একটা মজার অভিজ্ঞতা। আমি ক্রিকেট খেলতাম। আমার প্র্যাকটিস সেটটা চুরি হয়ে যায়। তখন খেলা বন্ধ। হাতে কোনো কাজ নেই। এ সময়ই কলেজের থিয়েটারে যাই। ওদের অভিনয় দেখছিলাম। জিনিসটা আমার খুব ভালো লাগল। আমার এক বন্ধু ছিল, সে ওই থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত। ওর সূত্রেই রিহার্সালে যাই। তারপর থিয়েটারের এক সিনিয়র ব্যক্তি আমাকে অ্যাপ্রোচ করলেন। আমি বলেছিলাম, থিয়েটার দলের সাথে কাজ করতে পারি। কিন্তু মঞ্চে উঠব না। উনি জানালেন, কলেজ থিয়েটার মূলত একটা মাদার থিয়েটারের অংশ। তার হাত ধরেই ওই থিয়েটারে যাওয়া।

নাটকে অভিনয়ের গল্পটাও মজার। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটা নাটকে প্রথম অভিনয় করি। পাকিস্তানি মিলিটারির চরিত্রে। কিন্তু সেই প্রথম নাটকে আমার চেহারা দেখা যায়নি। কেবল পা দেখা গিয়েছিল (হাসি)। ওটিটিতে প্রথম কাজ ছিল ‘ভাইরাস’।

এখন আমরা আপনার চেহারা দেখছি, অভিনয় দেখছি। এ সময় আর কী কাজ করছেন, সামনে আমরা কী পাচ্ছি?

অভিনয় করছি নিয়মিত। বিজ্ঞাপনেও কাজ করছি। একটা বিজ্ঞাপনে কাজ করলাম শঙ্খদার (শঙ্খ দাশগুপ্ত) পরিচালনায়। কাজী আসাদের পরিচালনায় ‘লাইফলাইন’ ওয়েব ফিল্মে কাজ করলাম। কুয়াকাটায় শুটিং ছিল। আগামী মাসে মুক্তি পাওয়ার কথা। অনম বিশ্বাসের পরিচালনায় ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ মুক্তি পাওয়ার কথা এ বছর।