রায়ান কুগলারের সর্বশেষ সিনেমা সিনার্স। বক্স অফিসে মধ্যম মানের ব্যবসা করেছে সিনেমাটি। কিন্তু সিনার্সের সম্ভাবনা অনেক। সিনেমাটি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে নিজের জন্য শক্ত জায়গা করে নেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কেননা কুগলার দীর্ঘদিন একটি ধারা নিয়ে কাজ করছেন, যা একাডেমি এড়িয়ে গেছে। এবার কুগলারের দিকে নজর দিতে হবে।

প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে রায়ান কুগলার হলিউডে একটা নীরব বিপ্লব করে যাচ্ছেন। কৃষ্ণাঙ্গদের নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করছেন। তাদের গল্পটা বলছেন। এক্ষেত্রে তাকে অনেকে কৃষ্ণাঙ্গদের ক্রিস্টোফার নোলান বলে থাকেন। তিনি আলাপে এসেছিলেন ফ্রুটভেল স্টেশন দিয়ে। এরপর ক্রিড ফ্র্যাঞ্চাইজি। এখনো দারুণ জনপ্রিয় ক্রিড। আর এসবের মধ্যে যতটুকু খামতি ছিল তা পার করেছেন ব্ল্যাক প্যান্থার দিয়ে। এর পরেই আসবে সিনার্সের নাম।

সিনেমাটি বক্স অফিসে হিটের তকমা পেয়ে গেছে এরই মধ্যে। এর সঙ্গে সাইকোলজিক্যাল হরর জনরায় সিনার্সের সংযোজনকে স্বতন্ত্র বলে মনে করছেন সমালোচকরা। সে জায়গা থেকে সমালোচক ও হলিউডভিত্তিক গণমাধ্যমগুলো মনে করছে একাডেমিকেও নতুন করে ভাবতে হবে এ সিনেমা নিয়ে। আর সেটা হলে অস্কারের বিবেচনায় আসা অল্পসংখ্যক কৃষ্ণাঙ্গ পরিচালকের তালিকায় যুক্ত হবেন রায়ান কুগলার। এ তালিকায় আছেন জন সিঙ্গলটন, লি ড্যানিয়েলস, স্টিভ ম্যাকুইন, ব্যারি জেনকিন্স ও স্পাইক লি।

হরর সবসময়ই একাডেমির মনোযোগ থেকে দূরে থাকে। এর মধ্যে ১৯৬০ সালে সাইকো ও ১৯৬৮ সালে রোজমেরি’স বেবি নিয়ে অনেক সম্ভাবনা দেখা দিলেও অস্কারে শেষ অবধি কল্কে পায়নি সিনেমা দুটি। বহুদিনের ইতিহাসে কেবল ১৯৯১ সালে দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বসই এগিয়ে ছিল। ২০১৭ সালে ‘গেট আউট’ও মৌলিক চিত্রনাট্যের ক্ষেত্রে পুরস্কার পায়। সর্বশেষ ‘দ্য সাবস্ট্যান্স’ পাঁচ বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল। সেখান থেকেই সিনার্সের সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে।

এ সিনেমায় মাইকেল জর্ডানের অভিনয়ও প্রশংসা পাচ্ছে। তিনি রায়ান কুগলারের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও তার সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করেছেন। এর আগে কুগলারেরই ‘ফ্রুটভেল স্টেশন’ ও ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’-এ জর্ডানের অভিনয় অস্কারে মনোনীত হওয়ার যোগ্য ছিল কিন্তু তা হয়নি। এবার প্রিচার বয় চরিত্রে মাইল ক্যাটনকেও বিবেচনায় রাখছেন সমালোচকরা। ২০ বছর বয়সী এ তরুণ তার অভিনয় প্রতিভার পূর্ণ প্রকাশ ঘটিয়েছেন সিনার্সে।

সব মিলিয়ে বক্স অফিসের পাশাপাশি সমালোচকদের কাছেও গুরুত্ব পাচ্ছে সিনার্স। সেখান থেকেই মনে করা হচ্ছে সিনেমাটি অস্কারে আগামী বছর মনোনয়ন পাবে। তাই বলাই যায় যে সিনার্স এখন কুগলারের তুরুপের তাস।

সূত্র: ভ্যারাইটি