বিধু বিনোদ চোপড়াকে কে চেনে না? সিনেমাপ্রেমীরা কমবেশি সবাই চেনেন। তবে তার আসল নাম এটি নয়। একসময় নিজের নাম বদলেছিলেন তিনি। আরো মজার ব্যাপার, তার নাম বদলের পেছনে ছিলেন কিংবদন্তি নির্মাতা ঋত্বিক ঘটক।
বলিউড তারকাদের জন্য নিজেদের নাম বদল নতুন কিছু নয়। রুপালি দুনিয়ায় পা রাখার আগে তারা নাম বদল করেন। ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই নাম রাখাটাই যেন নিয়ম। দিলীপ কুমার থেকে অক্ষয় কুমার কিংবা বর্তমান প্রজন্মের জনপ্রিয় নায়িকা কিয়ারা আদবানি, পর্দার জন্য নাম বদল করেছেন তিনি। কেবল নায়ক-নায়িকা বা তারকা নয়, নির্মাতারাও নাম বদল করেন। বিধু বিনোদ চোপড়া নাম বদলেছিলেন ঋত্বিক ঘটকের কথায়।
বিধু বিনোদ চোপড়ার আসল নাম বিনোদকুমার চোপড়া। এ নাম শুনেই নাকচ করে দেন ঋত্বিক। বিনোদকুমার চোপড়া নাম নিয়ে তার খ্যাত হওয়াটা বেশ কঠিন কাজ হবে বলে সতর্ক করেছিলেন ঋত্বিক। আসলে বিধু বিনোদ চোপড়ার শিক্ষক ছিলেন এ কিংবদন্তি পরিচালক। বিধু বলেন, ‘ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গে আমার দেখা ‘‘ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউশন অব ইন্ডিয়া’’য়। সেখানে শিক্ষক হয়ে আসেন তিনি। আমার নাম জিজ্ঞেস করেন। আমি বলি, আমার নাম বিনোদকুমার চোপড়া।’
এরপর বিনোদ জীবনে কী হতে চান জিজ্ঞেস করেন ঋত্বিক। উত্তরে বিনোদ জানান, পরিচালক হতে চান। বিধু বলেন, ‘ঋত্বিক বলেছিলেন, ‘‘এ নাম নিয়ে পরিচালক হবে? নাম হতে হয় ঋত্বিক ঘটক।’’ তখনই আমি নাম বদলে বিধু বিনোদ চোপড়া করি।’
ঋত্বিক ঘটক অনেক ক্ষেত্রেই খামখেয়ালি ছিলেন। তা নিয়ে অনেক ঘটনা ও গল্প সিনেমা মহলে প্রচলিত। বিধুকে ঋত্বিক মজা করেই কথাটা বলেছিলেন কিনা, তা নিশ্চিত নয়। তবে বিধুর মনে হয়েছিল নামটা বদল করা দরকার। তাই তিনি করেছিলেন। এখন নতুন নামেই পরিচিত তিনি।
বহু জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল সিনেমার সঙ্গে জড়িত বিধু বিনোদ চোপড়ার নাম। এর মধ্যে আছে ‘পরিন্দা’, ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’, ‘মিশন কাশ্মীর’ ও ‘টুয়েলফথ ফেইল’। এ সিনেমাগুলো তিনি পরিচালনা করেছেন। এছাড়া ‘মুন্নাভাই’ সিরিজ ও ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর লেখকও তিনি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস










