অস্কারের এবারের আসরে তিনটি বিশেষ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়গুলো দর্শক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি কেড়েছে। একটি ঘটনার কেন্দ্রে আছে ব্রাজিল। অন্যটির কেন্দ্রে ফিলিস্তিন। এছাড়া আদিবাসীদের কথাও বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
এবার অস্কারে সেরা আন্তর্জাতিক সিনেমা (বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফিচার) বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে ব্রাজিলের সিনেমা। অস্কারের আসরে ইতিহাস গড়েছে ব্রাজিলিয়ান সিনেমা ‘আই অ্যাম স্টিল হিয়ার’। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে জয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে ব্রাজিল। ওয়াল্টার সালেস পরিচালিত এ সিনেমা ইউনিস পাইভারের বাস্তব জীবনের গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত। সম্প্রতি সিনেমাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
পুরস্কার হাতে ওয়াল্টার সালেস বলেন, ‘আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি এ পুরস্কার গ্রহণ করতে পেরে, বিশেষ করে এত অসাধারণ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে এ মঞ্চে থাকতে পেরে। এ পুরস্কার সে নারীর জন্য, যিনি এক স্বৈরশাসনের সময় ভয়ানক ক্ষতির শিকার হয়েও ভেঙে পড়েননি। তিনি প্রতিরোধ করেছেন, লড়াই চালিয়ে গেছেন। তাই পুরস্কারটি তার জন্য এবং এটি আরো দুই অসাধারণ নারীর জন্য, যারা তার চরিত্রকে প্রাণ দিয়েছেন—ফার্নান্দা টরেস ও ফার্নান্দা মন্টেনেগ্রো।’
‘এমিলিয়া পেরেজ’-এ অভিনয় করে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হয়েছেন জোয়ি সালদানা। তার অভিনীত ‘উইকেড’ও এবার আলোচনায় ছিল। সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার হাতে জোয়ি কান্নায় আকুল হন। তিনি প্রথমেই বলেন, ‘এ সম্মান পেয়ে আমি অভিভূত’।
এরপর এমিলিয়া পেরেজের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ জানান জোয়ি। জোমিনিকান বংশোদ্ভূত মার্কিন তিনি। এ জাতিগোষ্ঠীর মধ্য থেকে তিনিই প্রথম অস্কার পেলেন। জোয়ি সালদানা বলেন, ‘আমার দাদি ১৯৬১ সালে এ দেশে এসেছিলেন। আমি গর্বিত একজন অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান, যারা স্বপ্ন, সম্মানবোধ ও কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা নিয়ে বড় হয়েছেন। আমি ডোমিনিকান বংশোদ্ভূত প্রথম আমেরিকান, যে একাডেমি অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করছে।’
এবারের আসরে সেরা তথ্যচিত্রের পুরস্কার জিতেছে ‘নো আদার ল্যান্ড’। ফিলিস্তিনিদের সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত এ তথ্যচিত্র। ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নির্মাতাদের যৌথভাবে নির্মিত এ চলচ্চিত্রে কর্মী বাসেল আদরার জীবন অনুসরণ করা হয়েছে, যিনি গ্রেফতারের ঝুঁকি নিয়ে তার নিজ শহরে ধ্বংসযজ্ঞের তথ্যচিত্র তৈরি করেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস










