একটি মরণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত কিছু শিম্পাঞ্জি বন্দি রয়েছে কেমব্রিজে। কিছু বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মীদের আন্দোলনের প্রতিবাদে এসব শিম্পাঞ্জিকে ছাড়া হলে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে পুরো ইংল্যান্ডে। একে একে মানুষ পরিণত হতে থাকে জম্বিতে। পুরো সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পরে কেটে গেছে ২৮ দিন। ইংল্যান্ড জনমনুষ্যহীন মরুভূমিতে পরিণত হতে বসেছে প্রায়। চারদিকে শুধু জম্বিদের আনাগোনা।
এমনই গল্প নিয়ে গড়ে উঠেছে ২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্রিটিশ চলচ্চিত্র ‘টুয়েন্টি এইট ডেইজ লেটার’। সাধারণত জম্বি নিয়ে যেসব চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে, তার মধ্যে প্রশংসিত কয়েকটি ছবির মধ্যে এটি একটি। হরর জনরার এ ছবিটি তার চমত্কার অভিনয়, চিত্রনাট্য, টান টান উত্তেজনা ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের জন্য বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে সব ছাড়িয়ে সিনেমায় জীবন নিয়ে টিকে থাকার যে লড়াইটাই বেশি চোখে পড়ে।
গল্পে দেখা যায়, শিম্পাঞ্জি থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার এরই মধ্যে ২৮ দিন হয়ে গেছে। এ সময় ছবিটির অন্যতম চরিত্র জিম সেন্ট থমাস হাসপাতালের কোমা থেকে জেগে ওঠে। কিন্তু উঠেই যেটা প্রত্যক্ষ করে সেটা হলো, পুরো শহর মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। এমন সময় হঠাৎ করে তাকে কিছু জম্বি আক্রমণ করতে গেলে সেলেনা ও মার্ক তাকে বাঁচায়। পরে তারা দুজনই জিমকে পুরো ঘটনা বর্ণনা করে।
এরপর জিম, মার্ক ও সেলেনা জিমের বাড়িতে গেলে সেখানেও জম্বিরা তাদের আক্রমণ করে। এ সময় মার্ক জম্বিদের আক্রমণে আহত হলে তাকে বাধ্যতামূলক হত্যা করতে হয়। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয় না। জম্বিরা জিম ও সেলেনাকে প্রায় ধরাশায়ী করে ফেলে। এমন সময় ফ্রাংক নামের ট্যাক্সি ড্রাইভার ও হ্যানা মিলে জম্বিদের হত্যা করে তাদের দুজনকে উদ্ধার করে। এরপর সবাই মিলে মেজর ওয়েস্টের কাছে আশ্রয় নেয়ার জন্য যাওয়ার পথে ফ্রাংককেও জম্বিতে পরিণত হয়। সে সময় সেনাবাহিনীর একটি দল ফ্রাংককে হত্যা করে অন্যদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
আশ্রয়স্থলে জিম পরিচিত হয় ফ্যারেলের সঙ্গে। এ সময় তারা বুঝতে পারে ইংল্যান্ডের বাইরে এ ভাইরাস ছড়ায়নি এবং পুরো ইংল্যান্ডকেই কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। ঘটনা মোড় নেয় যখন ওয়েস্ট তাদের বলে ইংল্যান্ডের অস্তিত্ব রক্ষা করতে তারা ভাইরাসে আক্রান্ত না হওয়া মেয়েদের মাধ্যমে নতুন করে আবার প্রজন্মের সৃষ্টি করবে। এ গণধর্ষণের বিরুদ্ধে বলায় জিম ও ফ্যারেলকে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর শুরু হয় নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
১১৩ মিনিটের টান টান উত্তেজনার চলচ্চিত্রটি ২০০২ সালের ১ নভেম্বর মুক্তি পায়। অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের প্রযোজনা ও ড্যানি বয়েলের পরিচালনায় ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন, সিলিন মার্ফি (জিম), নাওমি
হ্যারিস (সেলেনা), ব্রেন্ডন
গ্লিসন (ফ্রাংক), মেগান
বার্নস (হ্যানা), ক্রিস্টোফার
একলেস্টন (মেজর ওয়েস্ট) ও নোয়াহ হান্টলি (মার্ক)। দর্শকদের কাছ থেকেও ছবিটি ভালো সাড়া পায়। মাত্র ৮ মিলিয়ন ডলারে নির্মিত ছবিটি মোট ২৮ মিলিয়ন ডলায় আয় করে ২০০২ সালের অন্যতম ব্যবসাসফল হরর ছবির তকমা লাভ করে।










