‘চলে গেল ও, ওই স্টুপিড ক্লাবের একজন হয়ে গেল’—কার্ট কোবেইনের মা ২৭ ক্লাবের কথা বলে এ কথাগুলো বলেছিলেন এক রিপোর্টারকে। ‘আমি ওকে বারণ করেছিলাম, যেন এই স্টুপিড ক্লাবে যোগ না দেয়।’
কিন্তু নিরভানা ব্যান্ডের মূল স্তম্ভ, গায়ক গিটারিস্ট ও বিকল্প সংগীতের পুরোধা কার্ট কোবেইন মায়ের নিষেধ শোনেননি। জীবনের শেষ দিনগুলোয় কোবেইন লড়ছিলেন হেরোইন আসক্তির বিরুদ্ধে, সঙ্গে ছিল তীব্র মানসিক অবসাদ। ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনেও নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন কোবেইন। একদিকে উত্তুঙ্গ জনপ্রিয়তার চাপ, অন্যদিকে স্ত্রী সংগীতশিল্পী কোর্টনি লাভের সঙ্গে টানাপড়েন। ৮ এপ্রিল ১৯৯৪ সালে ২৭ বছর বয়সী কোবেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তার সিয়াটলের বাড়িতে। পুলিশ তদন্ত শেষে নিশ্চিত করেন, কোবেইন মাথায় নিজের শটগানের গুলিতে ৫ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।
বিস্ময়কর হলেও কোবেইনের মতো জিমি হেনড্রিক্স, জিম মরিসন, অ্যামি উয়াইনহাউস প্রত্যেক শিল্পীই মারা গেছেন তাদের খ্যাতির তুঙ্গ সময়ে। এ সময়ে বিস্ময়কর সব সংগীত তৈরি করেছেন তারা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সবাই মারা গেছেন ২৭ বছর বয়সে। রক ঐতিহাসিকরা যার নাম দিয়েছেন, ‘২৭ ক্লাব’।
জিমি হেনড্রিক্স ছিলেন নিঃসন্দেহে বিশ্বের রক এন রোলের সেরা গিটারিস্ট, এ কথা এরিক ক্ল্যাপটন, জিমি পেইজ, স্টিভ রে ভনের নাম মাথায় রেখেই বলা। জিমি ছিলেন অন্য উচ্চতার গিটারিস্ট। তার সত্যিকারের পেশাদার সংগীতজীবনের ব্যাপ্তি ছিল মাত্র চার বছরের। এ সময়েই তিনি তার তিনটি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেন। এ তিন অ্যালবামের প্রভাব এখনো পর্বতপ্রমাণ। তিনিও ১৮ সেপটেম্বর মাদকজনিত জটিলতায় ১৯৭০ সালে লন্ডনের নটিং হিলে মারা যান ২৭ বছর বয়সে।
জিম মরিসন ছিলেন দ্য ডোরসের প্রধান। কৃশকায়, অসম্ভব সুদর্শন গায়ক সংগীত জগৎ ছাড়িয়ে একই সঙ্গে হয়ে উঠেছিলেন ফ্যাশন আইকনও।
অলিভার স্টোনের মতো চলচ্চিত্রকার এ শিল্পীকে নিয়ে তৈরি করেন তার সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্প; জিম মরিসনের জীবনী-ছবি ডোরস।
জিম মরিসন মারা যান ৩ জুলাই ১৯৭১ সালে প্যারিসে। অবশ্যই ২৭ বছর বয়সে। তাকে তার অ্যাপার্টমেন্টের বাথটাবে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ আছে হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া। মৃত্যুর এক মাস আগে থেকেই তিনি ওজন হারাচ্ছিলেন।
জিম মরিসন মারা যান জিমি হেনড্রিক্সের মৃত্যুর নয় মাস পরই।
হেনড্রিক্স ও মরিসন দুজনেরই মৃত্যু সত্তরের দশকে। ওই একই দশকে বিদায় নিয়েছিলেন আরেক কিংবদন্তি রক ও ব্লু গায়ক জানিস জপলিন। তিনিও ২৭ ক্লাবের আরেক শিল্পী।
২৭ বছর তাই কারো কারো কাছে সংগীতশিল্পীদের জন্য উদ্বেগের বছর। কারো মতে, উদ্ভট ঘটনা ও কার্যকারণের। তবে যা-ই হোক, ২৭ ক্লাবে যোগ দেয়া শিল্পীদের মিছিল থেমে নেই। গত মাসেই অট বছর পূর্ণ হলো আরেক প্রখ্যাত শিল্পী অ্যামি উয়াইনহাউসের মৃত্যুর। অ্যামি মারা যান ২৩ জুলাই ২০১১ সালে লন্ডনের ক্যামডেনে। তার মৃত্যুর কারণও অতিরিক্ত মদ্যপান।
অলক্ষুণে ২৭ ক্লাব সামনে আরো কত সংগীত প্রতিভাকে সদস্য করে নেবে, কে জানে!
সূত্র: গালফ নিউজ










