অভিনেতা প্রতীক বব্বরের জীবন বেশ জটিল। নবজাতক অবস্থায়ই মাকে হারান তিনি। বয়স তখন মাত্র ১৫ দিন। প্রতীকের জন্ম ১৯৮৬ সালের ২৮ নভেম্বর আর তার মা স্মিতা পাতিল মারা যান ১৩ ডিসেম্বর। বড় হওয়ার পর বাবা রাজ বব্বরের সঙ্গে তার সম্পর্ক খারাপ হতে শুরু করে। এসব কথা কমবেশি সবার জানা। সম্প্রতি প্রতীক জানালেন, স্মিতা পাতিলের মৃত্যুর পর শাবানা আজমী তাকে দত্তক নিতে চেয়েছিলেন।

সত্তরের দশকে বলিউডে অভিনেত্রীদের মধ্যে সেরা দুজন ছিলেন স্মিতা পাতিল ও শাবানা আজমী। তাদের অন স্ক্রিন দ্বৈরথ নিয়ে সে সময় বেশ আলোচনা হতো। কিন্তু তাদের মধ্যে একটা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসাও ছিল। সম্প্রতি প্রতীক বব্বরের কথা থেকেও তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

এক সাক্ষাৎকারে প্রতীক বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমি জানতে পারলাম, মা মারা যাওয়ার পর শাবানা আজমী ও জাভেদ আখতার আমাকে দত্তক নিতে চেয়েছিলেন। বিষয়টা একটু জটিল ছিল বলেই হয়তো হয়নি শেষ পর্যন্ত।’ প্রতীক আরো মজা করেন বলেন যে তিনি তাহলে ফারহান আখতারের সৎ ভাই হয়ে যেতেন।

প্রতীক জানান, কিছুদিন পর পরই তিনি নিজের সম্পর্কে এমন নতুন কিছু তথ্য জানতে পারেন। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘কিছুদিন পর পরই আমার কাছে এমন অনেক তথ্য আসে নিজের সম্পর্কে, যা আমি নিজেই জানি না। তখন মনে হয়, আরো কী আছে তাও জানতে চাই।’

তবে দত্তক নেয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি তাকে আবেগমথিত করেছে। প্রতীক বলেন, ‘বিষয়টা আমাকে তাড়িত করেছে। কারণ আমি আসলেই জানি না যে সত্যি এ রকম কিছু হলে আমার জীবনটা কেমন হতো।’

প্রতীকের ছেলেবেলায় মায়ের মৃত্যু ও অন্যান্য কারণে তার শৈশবের অনেক কিছুই নিজের অজানা। তিনি বলেন, ‘এখন আমি দুদিন পরপর নিজের শৈশব নিয়ে এটা সেটা শুনি। আমাকে নিজের কাছে রাখা নিয়ে নাকি মামলাও হয়েছিল। আমি ছোট ছিলাম। কাঁদতাম এসব নিয়ে। জানতাম না কী হচ্ছে। মায়ের আরো অনেক সহকর্মীর আমার জন্য সহানুভূতি ছিল।’

প্রতীক বব্বর দীর্ঘ সময় নিজের নামের সঙ্গে বাবার পদবি ব্যবহার করেননি। মায়ের মৃত্যুর জন্য বাবাকে দায়ী করতেন তিনি। মাকে ভালোবাসেন অনেক বেশি। স্মিতা পাতিলের অভিনয় জীবন ও তার জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রতীক বলেন, ‘মায়ের একটা সুনাম ছিল তার কর্মস্থল ও কর্মজীবনে। অনেকে তাকে ভালোবাসতেন। শাবানা আজমী তাদের মধ্যে একজন ছিলেন। এছাড়া জাভেদ সাহেব, অমিতাভ বচ্চন, নাসিরুদ্দিন শাহ, রত্মা পাঠক শাহ অন্যতম। শ্যাম বেনেগালের কথা না বললেই না।’

রাজ বব্বর ও স্মিতা পাতিল মোটামুটি ১৯৮২ সালের দিকে প্রেমে পড়েন। এরপর তাদের সম্পর্ক এগোতে থাকে। ১৯৮৬ সালে মাত্র ৩১ বছর বয়সে প্রতিশ্রুতিশীল এ অভিনেত্রী মারা যান। সন্তান জন্মদান-পরবর্তী জটিলতায়ই মৃত্যু হয় তার। এরপর প্রতীক বব্বরকে স্মিতার বাবা-মা লালন পালন করেন। সিনেমায় প্রতীকের অভিষেক হয় ২০০৮ সালে, আব্বাস টায়ারওয়ালা পরিচালিত ‘জানে তু... ইয়া জানে না’ দিয়ে।

সূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস