সম্প্রতি শাকিব খান অভিনীত বরবাদ সিনেমায় ‘নিশ্বাস’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জিএম আশরাফ। এ গানের জন্য দর্শক-শ্রোতাদের প্রশংসা পাচ্ছেন তিনি। এর আগেও তার একাধিক গান জনপ্রিয় হয়েছে। প্লেব্যাকে যুক্ত হওয়া ও তার ক্যারিয়ারের অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদুর রহমান

আপনার কণ্ঠে বরবাদ সিনেমার নিশ্বাস গানটি আমরা শুনলাম, এ গান ও সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার গল্প যদি শেয়ার করতেন?

বরবাদ সিনেমার পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় ভাইয়ের সঙ্গে এর আগেও আমার কাজ হয়েছে। তবে এমন কাজ হয়নি। সেগুলো অন্য রকম ছিল। এ সিনেমার শুটিংয়ের আগে মেহেদী ভাই গল্পটা শোনালেন। বললেন, ‘একটা সিনেমা বানাব।’ তখন তিনি এ সিনেমার বিস্তারিত আমাকে জানালেন এবং বললেন, ‘আপনি এবার লেখেন ও সুর করেন’। আমি প্রথম একটু কনফিউজড ছিলাম যে আমাকে দিয়ে এত সিরিয়াস গান? কারণ সাধারণত আমি এত সিরিয়াস গান করি না। তারপর চিন্তা করলাম, চেষ্টা করি। এরপর আমরা প্রথমে গানটির সুর করি, লিরিক্স লিখি, যা তার কাছে ভালো লাগে। তারপর একটা ভয়েজ দিয়ে ডেমো রেডি করি। এরপর তিনি বললেন, ‘আমরা শাকিব খানকে বলে ফাইনাল অ্যাপ্রুভাল নেব।’ এর মধ্যে তিনি আমাকে শাকিব খানের কিছু লুক দেখালেন। বললেন, সিনেমায় হিরো দেখতে কেমন হবে দেখেন। তখন আমি আবার নতুন করে ভয়েজ দিয়ে ডেমো তৈরি করলাম। ফাইনালি গানটা রেডি করলাম এবং শাকিব ভাই নিজে অ্যাপ্রুভাল দিলেন। এখন মানুষ গানটি শুনছে । আশা করি আরো শুনবে মানুষ।

আপনার এর আগে বেশকিছু গান অনেক জনপ্রিয় হয়েছে। এবার সিনেমায় গাইলেন, আগের দর্শক প্রতিক্রিয়া আর নিশ্বাসের দর্শক প্রতিক্রিয়ার পার্থক্যটা কী ছিল?

এতদিন ইউটিউব ও ফেসবুক কমেন্ট দেখতাম বা কিছু ফ্রেন্ড সার্কেল, কিছু পরিচিত মিউজিশিয়ানদের টেক্সট পেতাম। কিন্তু এত অজানা মানুষ গানটাকে ফিল করে তালি দিচ্ছে, কেউ দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। যখন গানের সঙ্গে অ্যাকশনটা হচ্ছে, তখন বুঝতে পারলাম যে সিনেমার শক্তিটা কোথায়। সিনেমার ফিলটা পুরোই আলাদা। আমাদের মেগাস্টার শাকিব খান থাকায় এ জিনিস যতটুকু যাওয়ার কথা, তার থেকে ১০০ গুণ দূরে চলে গেছে মানুষের অনুভূতির জায়গা থেকে।

গানটি তৈরিতে কোনো চ্যালেঞ্জ ছিল কিনা?

আমি অনেক লাইট হার্টেট মানুষ এবং অনেক সহজ ও মজার গান বানাই। এখানে আরিয়ান মির্জা যে ক্যারেক্টার, সে একদমই ছিল না। গানটি শুরুর পর গানের মিউজিক যিনি করেছেন, আমার ক্লোজ ছোট ভাই আদিবকে বলেছিলাম যে গানটা শুরু করেছি, এটা কি করতে পারব? তারপর আমরা শুরু করি। আরিয়ান মির্জার মতো চিন্তা করি আর সেখান থেকেই অনুভূতির জোয়ারটা আসছে।

আপনার করা ‘‌মাফ কইরা দেন’, ‘বোঝে না বউ’—এ গানগুলো নিয়ে যদি বলতেন

মাফ কইরা দেন যখন করেছি, তখন আমি একদম ইয়ং। গানটি ছিল মানুষের জন্য একটা মেসেজফুল গান। আমার আরেকটি গান ‘টাকলা’, এটিও একটু অন্য রকম গান ছিল। এটা একটা ফানি গান। বোঝে না বউ মজার হলেও বাস্তবের সঙ্গে মিল পাবেন।

গানের সঙ্গে আপনার যাত্রা কীভাবে এবং পরে কীভাবে এগোলেন?

মালয়েশিয়া থেকে বিবিএ শেষ করে আসার পর আমার মনে হলো আমি কিছু একটা করব। আমার বন্ধু নাফিসের মাধ্যমে আমার গানে আসা। এরপর একটু একটু করে এতটুকু আসা। আমি তেমন কোনো গাইডলাইন পাইনি। আমি এখনো প্রতিটি দিন শিখছি।

আপনার পরবর্তী পরিকল্পনা কী?

আমার অনেক বন্ধু আছেন, যাদের বাবারা মিউজিক করেছেন। যাদের কাউকে বিট করার ইচ্ছা থাকে, যেমন তারা তাদের বাবা কিংবা ভাই থেকে বেটার করবে। আমার এমন কোনো টার্গেট নেই। আমার কোনো প্রতিযোগিতাও নেই। আমার কম্পিটিশন আমার নিজের সঙ্গে। আমার একটা ব্যক্তিগত ইচ্ছা, যত ধরনের জনরা আছে সব জনরার অন্তত একট করে গান বানানো।