কোনো ব্যক্তিগত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, রিসোর্ট, পার্ক কিংবা খোলা মাঠে নয়, প্রতিটি পর্বের স্থান নির্বাচনের পেছনে গুরুত্ব পায় ওই অঞ্চলের ইতিহাস, সভ্যতা, সংস্কৃতি, পুরাকীর্তি ও পর্যটনসমৃদ্ধ বৈচিত্র্য। সে ধারাবাহিকতায় এবারের পর্বের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে নদীঘেরা উপকূলীয় জনপদ লক্ষ্মীপুর জেলাকে। ৩১ জুলাই রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার হবে অনুষ্ঠানটি।

লক্ষ্মীপুরের ইতিহাস ও সৌন্দর্যকে উপজীব্য করে এবারের মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে জেলা সদরে অবস্থিত শতবর্ষ প্রাচীন দালাল বাজার জমিদারবাড়ির স্মৃতি বহনকারী নবীন কিশোর উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে। অনুষ্ঠান ঘিরে গোটা লক্ষ্মীপুরেই তৈরি হয়েছিল উৎসবের আবহ। দুপুরের পরই দর্শক অনুষ্ঠানস্থলের দিকে আসতে শুরু করে। বরাবরের মতো এবারো স্থানীয় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দর্শককে বিতরণ করা হয় আমন্ত্রণপত্র।

নির্ধারিত সময়ের আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ। জেলা সদরে ধারণ করা হলেও দর্শক কেবল সদর নয়, জেলার দূর-দূরান্তের উপজেলা, এমনকি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকেও এসেছিল। ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি দর্শক উপস্থিত হওয়ায় তৈরি হয় এক অভাবনীয় দৃশ্য। শত শত মানুষ স্থান করে নেন আশপাশের বহুতল ভবনের ছাদ, প্রাচীর, রাস্তা আর গাছের ডালে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তিও দমাতে পারেনি দর্শকের উচ্ছ্বাস।

এবারের পর্বে থাকছে দুটি বিশেষ গান। এর একটিতে কণ্ঠ মিলিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের কণ্ঠশিল্পী তানজিনা রুমা ও ফেনীর কণ্ঠশিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুল। গীতিকার কবির বকুলের কথায় গানটির সুর করেছেন আকাশ মাহমুদ। উপস্থিত দর্শক গানটি দারুণভাবে উপভোগ করেন।

অন্যদিকে থাকছে জেলা পরিচিতিমূলক নৃত্যগীত। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। তানজিনা রুমা ও রাজিবের কণ্ঠে এ গানের সুরে এসকে জাহিদের কোরিওগ্রাফিতে মঞ্চ মাতিয়েছেন স্থানীয় নৃত্যশিল্পীরা।

দর্শকপর্বের নিয়ম অনুযায়ী লক্ষ্মীপুরকে ঘিরে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকের মধ্য থেকে চারজনকে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়। পরে তারা লক্ষ্মীপুরেরই সন্তান জনপ্রিয় নাট্যব্যক্তিত্ব দিলারা জামানের সঙ্গে একটি নাট্যাংশে অভিনয় করেন, যা ছিল বেশ উপভোগ্য।

অনুষ্ঠানে থাকছে এভারেস্ট বিজয়ী প্রথম বাংলাদেশী নারী, লক্ষ্মীপুরের গর্ব নিশাত মজুমদারের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার। এভারেস্ট জয়ের অভিযাত্রায় নিশাত মজুমদার ও আরেক এভারেস্ট বিজয়ী এমএ মুহিতের হাতে শোভা পাচ্ছিল ‘ইত্যাদি’ লেখা একটি বিশেষ প্ল্যাকার্ড। পর্বতারোহণ ও ইত্যাদি নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে থাকছে কয়েকটি তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনও। লক্ষ্মীপুরের বিস্তৃত মাঠজুড়ে সয়াবিনের সমারোহ এবং নারিকেল ও সুপারি গাছের সারির চিত্রের পাশাপাশি রয়েছে জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওপর একটি প্রতিবেদন। শিক্ষা ও উদ্দীপনার উদাহরণ হিসেবে থাকছে লক্ষ্মীপুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে একটি উদ্দীপনামূলক প্রতিবেদনও।

এবারের পর্বে একটি মানবিক প্রতিবেদন থাকছে নদী আর ভাগ্যের সঙ্গে অবিরাম লড়াই করা লক্ষ্মীপুরের এক নিঃস্ব মাঝিকে নিয়ে, যার আয়ের উৎস ছিল এ নদী। আজ এ নদীই তাকে করেছে নিঃস্ব।

এছাড়া বিদেশী প্রতিবেদনে দর্শককে দেখানো হবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ফেরত সৈনিকদের তৈরি বিশ্বের দীর্ঘতম যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ, চোখধাঁধানো উপকূলীয় পথ ‘গ্রেট ওশান রোড’।

অনুষ্ঠানে থাকছে কাশেম টিভির রিপোর্টার ও তার নাতির প্রাণবন্ত আলাপ। পাশাপাশি থাকবে চিঠিপত্র পর্ব এবং সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক প্রসঙ্গনির্ভর একাধিক তীর্যক নাট্যাংশ—‘তৈল টিভি’, ‘মুখোশের অন্তরালে’, ‘স্ক্রিনে বন্দি জীবন’, ‘উন্নয়ন প্রতারণা’, ‘বিয়ে যন্ত্রণা’, ‘সবাই ডাক্তার’, ‘ইউটিউব ফিভার’, ‘ডিজিটাল চিকিৎসা’ এবং ‘খাঁটি সোনা ও নকল সোনা’। এসব নাট্যাংশে অংশ নিয়েছেন সোলায়মান খোকা, আজম খান, সুভাশিষ ভৌমিক, আবদুল্লাহ রানা, মীর নাসিমুল ইসলাম সেলিম, জিল্লুর রহমান, আব্দুল আজিজ, বড়দা মিঠু, শরাফ আহমেদ জীবন, হারুন রশিদ বান্টি, আশরাফুল আলম সোহাগ, সুমন পাটোয়ারী, আমিন আজাদ, মুকিত জাকারিয়া, আনন্দ খালেদ, সাইদুর রহমান পাভেল, এমএনইউ রাজু, আনোয়ারুল আলম সজল, আনোয়ার শাহী, জামিল হোসেন, সাবরিনা নিসা, জাহিদ শিকদার, কামাল বায়েজিদ, সাজ্জাদ সাজু, নূরে আলম নয়ন, সুজাত শিমুল, সুবর্ণা মজুমদার, তারিক স্বপন, মুকুল সিরাজ, নজরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, সূচনা শিকদার, নিপু, বেলাল আহমেদ মুরাদসহ আরো অনেকে।

বরাবরের মতো এবারো অনুষ্ঠানের শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন মুকিমুল আনোয়ার মুকিম। পরিচালকের সহকারী হিসেবে ছিলেন রানা সরকার ও মোহাম্মদ মামুন। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করেছে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।