একবার জিতেছেন সেরা অভিনেতার অস্কার, চারবার পেয়েছেন মনোনয়ন।
সর্বশেষ দ্য টু পোপস ছবিতে পোপ ষোড়শ বেনেডিক্টের ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য ৯২তম অস্কার আসরেও মনোনয়ন পেয়েছিলেন সেরা অভিনেতা বিভাগে।
দ্য টু পোপস ছবিটি আবর্তিত হয়েছে পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট এবং পোপ ফ্রান্সিসের মধ্যে কথোপকথনকে
কেন্দ্র করে।
ছবিতে দেখা গেছে, দুজন ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের খ্রিস্টান ধর্মগুরু পরস্পরের প্রতি সম্মান রেখে আলোচনার মাধ্যমে একে অন্যকে জয় করতে চাচ্ছেন।
দ্য টু পোপস ছবিতে আলোচনার সূত্র ধরে ওপেন ম্যাগাজিন-এর নোয়েল ডি সুজা কথা বলেছেন অ্যান্টনি হপকিন্সের সঙ্গে।
জানতে চেয়েছিলেন, ‘আলোচনা
কি
সত্যিই পার্থক্যের দেয়াল ভাঙতে পারে?’ জবাবে অ্যান্টনি হপকিন্স বলেছেন, ‘আমার
মনে হয় রসবোধ ও হাসির মাধ্যমে আমরা অন্যদের সামনে উদার হূদয়ের মানুষ হিসেবে হাজির হতে পারি।
আজকের দিনে সবাই ক্রুদ্ধ ও তিক্ততায় পূর্ণ, কেউ কারো সঙ্গে কথা বলতে চায় না।
সবাই ব্যস্ত টেক্সট করতে।
এমন অবস্থায় আপনার মধ্যে যদি রসবোধ কিংবা মুখে হাসি না থাকে, জীবনের আলোচনা না থাকে, তাহলে আপনি এমনিতেই মৃত।’
এরপর নোয়েল হপকিন্সকে আরো গভীর এক প্রশ্ন করেন, ‘আপনি
কি
আধ্যাত্মিক মানুষ?’ জবাবে হপকিন্স শুনিয়েছেন তার ব্যক্তিজীবনের গল্প।
তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে তাকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রের কাজ করছিলেন তার স্ত্রী।
এ
কাজ করতে গিয়ে তিনি জোডি ফস্টারের সাক্ষাত্কার নেন।
উল্লেখ্য, সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্ব ছবিতে জোডি ছিলেন অ্যান্টনির সহশিল্পী।
এরপর অ্যান্টনির স্ত্রী সাক্ষাত্কার নেন তার স্কুলের এক শিক্ষিকার।
তাকে প্রশ্ন করেন স্কুলে অ্যান্টনি কেমন ছিল? সে শিক্ষিকা জানান, অ্যান্টনি জীবনে কিছু করতে পারবে, এ রকম কোনো আশা তারা কখনো করেননি।
বরং স্কুল ছেড়ে যাওয়ার সময় অ্যান্টনিকে নিয়ে তারা কেবল হতাশই ছিলেন।
স্ত্রীর মুখে এসব শুনে অ্যান্টনি নিজের জীবন নিয়ে ভাবতে বসেন।
তার কথায়, কীভাবে আমি জীবনে এসব কাজ করেছি ভেবে অবাক হচ্ছিলাম।
সবকিছু রীতিমতো অসম্ভব মনে হচ্ছিল।
‘নিজের চেহারা আর বুড়ো হয়ে যাওয়া শরীরের দিকে তাকিয়ে আমার মনে হলো এসবের পেছনে আমার চেয়ে বড় কোনো শক্তি আছে।
আমি নিজে কিছুই না।
বুঝলাম আমার কোনো কাজের কৃতিত্বই আমার নয়।
সত্যিই বড় কোনো শক্তি আমাকে পথ দেখিয়েছে।
আমি এ শক্তিকেই ঈশ্বর বলি।
আমি তাতে বিশ্বাস করি।’
সূত্র : ওপেন ম্যাগাজিন










