স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ের গল্প ১৯৭১ সালে শুরু হলেও তা শেষ হয়নি। সময়ের প্রেক্ষাপট বদলালেও চেতনার ভিত এখনো একইভাবে স্পন্দিত করে দেশপ্রেমিক হৃদয়কে। সেই চেতনাই এবার উঠে আসছে নির্মাতা খিজির হায়াত খানের নতুন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘৭১+২৪=বাংলাদেশ ২.০’-এ—যেখানে একসূত্রে বাঁধা হয়েছে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কাজটি করেছেন খিজির হায়াত খান। তার ভাষায়, ‘১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ আমি চোখে দেখিনি। কিন্তু সেই যুদ্ধের গল্প, সেই আত্মত্যাগের গন্ধে আমি বড় হয়েছি। আমার শিরায় বইছে সেই রক্ত, যে রক্তে বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছে। আর ৩৬ জুলাই—আমি সেটা দেখেছি, অনুভব করেছি, মাঠে ছিলাম। হয়তো ভূমিকা ছিল ক্ষুদ্র, কিন্তু হৃদয়ের অংশগ্রহণ ছিল পূর্ণ।’
এ চলচ্চিত্র নির্মাণের পেছনের দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এই শর্ট ফিল্মটি আমাদের সেই দুই সময়ের—৭১ আর ২৪-এর—সম্মিলিত শক্তিকে একসঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা। নতুন বাংলাদেশ মানে শুধু উন্নয়ন নয়, মানে ইতিহাসকে সম্মান করে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া। শহীদদের রক্তের মর্যাদা এক, হোক সে ১৯৭১-এর কিংবা ২০২৪-এর। এ নির্মাণে আমরা সেই চেতনা, সেই আত্মত্যাগ, সেই ভালোবাসা তুলে ধরতে চেয়েছি।’
স্বল্পদৈর্ঘ্য হলেও এটি শুধু একটি ফিল্ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নির্মাতার মতে, ‘এটা শুধু একটা শর্ট ফিল্ম নয়, এটা আমাদের জাতিগত স্মৃতি, আমাদের ভবিষ্যতের দিশা।’
সিনেমাটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে এক তরুণের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে, যিনি ২০২৪ সালের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। একপর্যায়ে তার দেখা হয় একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে, যিনি নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। সেই গল্পে মিলে যায় দুই সময়ের চেতনা, সংগ্রাম ও দায়বদ্ধতা। চলচ্চিত্রটি মঙ্গলবার ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে।
পরিকল্পনা রয়েছে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মুক্তচিন্তার মঞ্চেও প্রদর্শনের—জানান চলচ্চিত্রটির পরিচালক ও অভিনেতা। এতে পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন খিজির হায়াত খান। তার সঙ্গে আরো আছেন ইন্তিখাব দিনার।










