বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন গত মাসে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান বিক্ষোভে শামিল হয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। এদিকে বলিউড পাড়ার স্পষ্টভাষী নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রে ভ্রাতৃত্বের বিবেক রক্ষাকারী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন।
সম্প্রতি কলকাতায় পঞ্চম দমদম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলিউডের কোয়ান্টিন টারান্টিনোখ্যাত অনুরাগ শিল্পীদের সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘একজন
শিল্পীর নিজের অধিকার নিয়ে কথা বলার সাহস থাকা উচিত। একজন শিল্পী সমাজের দর্পণ ও বিবেক।’
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাসের পর কাশ্যপ এর বিরুদ্ধে কঠোর বিবৃতি দিয়েছিলেন এবং স্বেচ্ছায় বিষয়টি নিয়ে সাক্ষাত্কার গ্রহণের জন্যও গিয়েছিলেন।
গ্যাং অব ওয়াসিপুর-এর নির্মাতা সিএএর বিরুদ্ধে টুইটের জন্য ডানপন্থী দলের দ্বারা ট্রলের শিকার হয়েছিলেন। দলের সদস্যরা বলেছিলেন, “একজন
শিল্পীর ‘রাজনৈতিকভাবে সঠিক বিবৃতি’ দেয়ার পরিবর্তে সত্য কথা বলা উচিত।”
টুইটারে এ নির্মাতা একটি ছবিও পোস্ট করেছিলেন। ছবিতে দেখা যায়, ১৯৮৪ সালে চীনে সংঘটিত তিয়েনআনমেন বিদ্রোহের সময় ‘পিপলস লিবারেশন আর্মি’র ট্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন একজন চীনা ব্যক্তি। ছবিটি পোস্ট করে শিরোনামে কাশ্যপ লিখেছিলেন, ‘তুম
কন হো বে?’। এ কারণেই তিনি ট্রলের শিকার হন।
এ সাক্ষাত্কারে নির্মাতা কাশ্যপ কমেডিয়ান কুনাল কামরার বিমান চলাচলের ওপর এয়ার ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়ার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন। সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামীকে নিয়ে কুনাল একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন, যা ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল।
নির্মাতা অনুরাগ দ্য টেলিগ্রাফ সংবাদমাধ্যকে বলেন, ‘দমদমে
(চলচ্চিত্র উৎসবে) আসতে আয়োজকরা আমার জন্য ইন্ডিগোতে বুক করেছিলেন...কুনাল
নিষিদ্ধ হওয়ার পর, ইন্ডিগোতে যাব না বলে আমি আয়োজকদের জানিয়ে দিই।’
কোনো এক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমা দেখার পরই মূলত নির্মাতা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানান অনুরাগ কাশ্যপ। ‘আমি যদি চলচ্চিত্র উৎসবে না আসতাম এবং কয়েকটি ছবি দ্বারা অনুপ্রাণিত না হতাম, তাহলে আজকে আমি অন্য কিছু হতাম’—তিনি বলেন।
সত্যজিৎ রায়ের শতরঞ্জ কে খিলাড়ি চলচ্চিত্রটি বোম্বে ভেলভেট-এর নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপকে পরিচালক হতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
সূত্র: ডেকান ক্রনিক্যাল










