ডেইলি স্টার সেন্টারে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ৩৬ দিনে সাংবাদিকদের তোলা বিভিন্ন ছবি, সংবাদ সংগ্রহে অভিজ্ঞতা, সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের নজিরবিহীন আক্রমণের ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টায় প্রদর্শনীটি শুরু হয়। ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বণিক বার্তা পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ। পরবর্তী সময়ে ডেইলি স্টার সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় জুলাই বিপ্লবে আহত ও নিহত হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামশি আরা জামান। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমার সন্তান দেশের জন্য শহীদ হয়েছে। আমি একজন শহীদের মা। দুঃখের বিষয় হলো, আমাদের সন্তানেরা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে কিন্তু দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে সংস্কার হয়নি। একজন শহীদের মা হিসেবে আমি ভেঙে পড়তে চাই না, আমি চাই দেশের সংস্কার হোক।’
উপস্থিত ছিলেন শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবিনা আফরোজ শ্রাবন্তী। তিনি বলেন, ‘নিজের ভাইকে কবরে শুইয়ে রেখে বাসায় খাওয়া-দাওয়া করি, এসব ভাবলে আমরা ভেঙে পড়ি। মনে হয় আমরা স্বার্থপর। দুই বোনের এক ভাই ছিল সৈকত। কিন্তু তাকে ফ্যাসিবাদী বাহিনী মেরে ফেলেছে। আমার ভাই লম্বা ছিল। তাই তাকে টার্গেট করে শুট করা হয়েছে। আমি শুধু আমার ভাই না, সব হত্যার বিচার চাই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। আমরা সে প্রত্যাশায় রয়েছি।’
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানো, পা হারানো ও প্রতিবন্ধী হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।










