বিশ্বখ্যাত হরর লেখক স্টিফেন কিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার ছেড়ে দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমগুলো ‘মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার সুযোগ করে দেয়’ বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন কিং।

বেস্টসেলিং হরর ঔপন্যাসিক স্টিফেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একজন প্রসিদ্ধ ব্যবহারকারী। অথচ তিনিও বলছেন, ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষার সক্ষমতা নিয়ে সাইটটির (ফেসবুক) ওপর তিনি আত্মবিশ্বাসী নন।

কিং সম্প্রতি টুইটারে ঘোষণা দিয়েছেন, তার ফেসবুক পেজ মুছে ফেলা হয়েছে। টুইটারে এ লেখকের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন।

এদিকে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের মতো বিষয়বস্তু পর্যবেক্ষণ ও যাচাই-বাছাই না করার সিদ্ধান্তে সামাজিক নেটওয়ার্কগুলো সমালোচনার মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে ফেসবুকের নির্বাহী প্রধান মার্ক জাকারবার্গ যুক্তি দিয়েছেন, ‘রাজনৈতিক বক্তব্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলোকে সেন্সরের অধীনে নিয়ে আসা উচিত হবে না।’

ফেসবুক গত মাসে বিবৃতিতে বলেছিল, সাইটটি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের লক্ষ্যমাত্রা সীমাবদ্ধ করার বিষয়ে বিবেচনা করেছিল। কিন্তু পরে তারা অনুভব করেছিল, যারা জনসাধারণকে নেতৃত্ব দিতে চায়, তাদের কথা সাধারণ মানুষদের শোনা দরকার। তবে তারা যা বলে, তা জনসাধারণের যাচাই-বাছাই করা উচিত।

গত অক্টোবরে সংস্থাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রচার করে তোপের মুখে পড়েছিল। এ ভিডিওতে দেখানো হয়, ইউক্রেন যদি জো বাইডেনের ছেলের কোম্পানির তদন্তকারী প্রসিকিউটরকে বরখাস্ত করে, তাহলে তিনি দেশটিকে ১ বিলিয়ন ডলার দেবেন। যেটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা।

বাইডেন যখন এ বিজ্ঞাপনটি সম্পর্কে অভিযোগ করেন, তখন ফেসবুক তার মুক্ত মতামত, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও সংবাদ সংস্থাগুলোর স্বাধীনতার মধ্যে প্রকৃত গণতান্ত্রিক চর্চা— এ বিশ্বাসের কথা বলেছিল। এছাড়া রাজনৈতিক বক্তব্য এরই মধ্যে যাচাই-বাছাই করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিল।

গত সপ্তাহে নিউইর্য়ক টাইমস-এর হয়ে সমাজসেবক জর্জ সোরোস বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, মিস্টার ট্রাম্প এবং ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ বুঝতে পেরেছেন, তাদের আগ্রহের বিষয়গুলো প্রায় একই; ট্রাম্প চান নির্বাচনে জয়লাভ করতে, আর জাকারবার্গ চান অর্থ উপার্জন। ফেসবুকে সোরোস লিখেছেন, ‘কেবল একটি নীতি অনুসরণ করুন: ফলাফল নির্বিশেষে মুনাফা সর্বাধিক করুন।’

এদিকে ফেসবুকের প্রতি অভিযোগ জানালেও টুইটার নিয়ে নিজের সমর্থন জারি রেখেছেন কিং। টুইটারে এ লেখক ঘোষণা দিয়েছেন, সব রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন তিনি নিষিদ্ধ করেছেন। কিং তার রাজনৈতিক মতামত প্রচারের উপায় হিসেবে সাইটটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করেছেন। খুব সম্প্রতি তিনি এলিজাবেথ ওয়ারেনের পক্ষে সমর্থন জানাতে সাইটটি ব্যবহার করেছেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মনোনয়নপ্রাপ্ত যে কারো পক্ষে সমর্থন এবং কাজ করতে রাজি,  তবে আমি এলিজাবেথ ওয়ারেনকে সমর্থন জানাচ্ছি।’

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান