জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আগুন। পুরো নাম খান আসিফুর রহমান। প্রয়াত নায়ক সালমান শাহর প্রথম সিনেমা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এ প্লেব্যাক করে তারকাখ্যাতি পান তিনি। এরপর শুধু সিনেমায় নয়, অ্যালবামেও তিনি বাজিমাত করেন। একক ও মিক্সড অ্যালবামে পাওয়া যেত তাকে। তবে মাঝে দীর্ঘ সময় আড়ালে চলে যান তিনি। ক্যারিয়ারের অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ নিয়ে আগুন কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শানজিদ অর্ণব
ব্যান্ড, রক ও ক্ল্যাসিক মিউজিকের সঙ্গে আপনি ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ করে গান থেকে কেন সরে গেলেন?
সোজাসুজি বলতে গেলে সবাই যে কাজটা ৪০ বছরে করে আমার সেটা চার বছরে করা হয়ে গেছে। চার বছরের মধ্যে আমি ও সালমান মানুষকে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিতে পেরেছি। গান থেকে সরে যাওয়ার কারণ সালমান চলে যাওয়ার পর টানা দুই বছর কোনো সিনেমা চলেনি। সেক্ষেত্রে আমার কাজ একটু কম হয়েছে।
আপনার ক্যারিয়ারে প্লেব্যাক, অ্যালবাম, স্টেজ শোয়েও গান করেছেন। কোনটায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন?
স্টেজ একটা আলাদা বিষয়। স্টেজে উঠলাম আর অন্যের গান করে গেলাম। আমি কিন্তু এমন করিনি, কারণ আমার নিজের যথেষ্ট গান রয়েছে। সেগুলো মানুষের মুখে মুখে আছে। অডিও সেক্টর সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে যা ইচ্ছা তাই করতে পারা যায়, কারণ এটা আমার সেক্টর। প্লেব্যাক হলো একটা চ্যালেঞ্জিং বিষয়। আমি গাইব আর মানুষ ভাববে পর্দায় যে আছে সে গাইছে। বিভিন্ন হিরোর নানা ভয়েস আমরা দেখি। সে ভয়েসগুলো স্ক্রিনে কতটা মাখামাখি হচ্ছে, এটা কিন্তু একটা চিন্তার বিষয়। আমি বাংলাদেশের লাস্ট প্লেব্যাক সিঙ্গার। এরপর প্লেব্যাক বলতে আমরা যা বুঝি, সে জিনিস কিন্তু হয়নি।
যেহেতু আপনার বাবা একজন পরিচালক, সেহেতু আপনি কখনো সিনেমা পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন কিনা?
না, চাইনি। সিনেমা পরিচালনা করতে গেলে আমাকে বিপদে পড়তে হতো। যেমন সত্যজিৎ ও সত্যজিতের ছেলে দুজনই পরিচালক। মানুষ বাবা-ছেলের কাজ নিয়ে তুলনা করতে পারে। আমি যদি সিনেমা বানাতাম তখন মানুষ বলত, আপনার বাবা এটা বানিয়েছে আপনি কী বানিয়েছেন, তুলনা করত। ভাগ্য ভালো আমি গান করেছি।
গানে আসার ক্ষেত্রে আপনার মায়ের কোনো প্রভাব ছিল কিনা?
আমার বাবা-মায়ের রক্ত আমার গায়ে বইছে। আমি কোনোদিন কোনো ওস্তাদের কাছে শিখিনি। খুব গর্ব করে বলছি এমনটা নয়, আমি যা করেছি, এগুলো আল্লাহ প্রদত্ত।
আপনার বাবার সঙ্গে কোনো স্মৃতি পাঠকদের উদ্দেশে যদি শেয়ার করতেন।
সবকিছু বলা হয়ে গেছে।
গানের ক্ষেত্রে নব্বইয়ের দশকের সঙ্গে ২০০০-এর পর কিংবা বর্তমান সময়ের বড় পার্থক্যটা কী দেখেন?
বড় পার্থক্য হচ্ছে, তখনকার সময় আমরা শত শত গান করতাম। যেগুলো শ্রোতাপ্রিয়তা পেত। এখন হাজার হাজার গান রিলিজ হচ্ছে, সেগুলোর খবর কেউ রাখেও না।
এ মুহূর্তে আপনার সময় কাটে কীভাবে?
শুধু গানবাজনা করে এখন ততখানি শান্তি পাচ্ছি না। নিজের পথ চলাটাকে একটু পরিবর্তন করতে চাচ্ছি। আমি বর্তমানে একটি ল্যান্ডিং প্রজেক্টের সঙ্গে জড়িত আছি।
আপনার শখ সম্পর্কে জানতে চাই।
আমার শখ শুট করা। আমি শুটিং ক্লাবের মেম্বার, প্রায়ই সেখানে যাই। বোর্ড লাগিয়ে সেখানে গোলাগুলি করা হয়। এটা আমার কাছে ভালো লাগে।
গান নিয়ে আগামীতে কী পরিকল্পনা আছে?
‘এক গ্লাস নীরবতা’ নামে একটা গান আমার এ মাসে আসার কথা। সালমার সঙ্গে এই প্রথম একটা সুন্দর গান করেছি। আশা করছি, এটি অনেক ভালো হবে।
তাহলে সামনের দিকে আপনার গান পাবে দর্শক শ্রোতারা?
আমার গান মাঝে মাঝে রিলিজ হচ্ছে। কিন্তু সেটা হয়তো দর্শক পর্যন্ত সেভাবে পৌঁছাচ্ছে না। এখন হয়তো হিট হচ্ছে না। আমার গান এখন হিট হবে, এটা ওইভাবে আশাও করি না। আমি যে ধরনের গান করি, এ ধরনের অডিয়েন্স বদলে গেছে।
আপনি অভিনয়ও করেছেন, সেটা পরবর্তী সময় আর করেননি। অভিনয়ের অভিজ্ঞতা জানতে চাচ্ছি।
আমার এখনো অভিনয় করার ইচ্ছে আছে। কিন্তু আপাতত অভিনয়টা বন্ধ রেখেছি। কারণ আমি গানে ডুব দিতে চাই আবার।
আমরা নিশ্চয়ই আশা করতে পারি, আপনাকে গানে সামনের দিকে পাওয়া যাবে।
আমাকে গানে পাওয়া যাবে, কিন্তু সে গানগুলো দর্শকপ্রিয়তা পাবে কিনা আমি জানি না। বর্তমানে সবকিছু ভিউ-নির্ভর হয়ে গেছে। এতে আমি দোষ দেখি না, তবে আমাদের মোরালিটির অনেক অভাব।
সংগীতের বাইরে গিয়ে যদি জিজ্ঞেস করি, স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিক্রম হয়ে গেছে, সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে বলে আপনি মনে করছেন?
সামনের দিনগুলো অবশ্যই অনেক ভালো যাবে। সে দিনগুলো আলোকিত হতে বাধ্য।










