ব্রুস লি মারা যান ৩২ বছর বয়সে। তার মেয়ে শ্যানন লির বয়স তখন মাত্র চার। বাবাকে খুব বেশি দিন জড়িয়ে ধরতে না পারলেও শ্যানন বড় হয়েছেন তার কিংবদন্তির সঙ্গে। ১৯৭১ সালে হলিউডে ব্রুস লির কুং ফু খ্যাতি আকাশ ছুঁয়েছিল। সে সময় ব্রুস লি দ্য ওয়ারিয়র নামে একটা টিভি শো করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। গল্পটা ছিল একজন মার্শাল আর্ট জানা চীনা অভিবাসীর, যে ১৮ শতকের শেষভাগে টং যুদ্ধের মাঝে আটকে গিয়েছিল। এটা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে চায়নাটাউনগুলোয় বিভিন্ন দলের মধ্যে সংঘাত। গল্পের নায়ক এসব অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন।
দ্য ওয়ারিয়র-এর মুখ্য চরিত্রটি নিজেই করার সিদ্ধান্ত নেন লি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্টুডিওর সঙ্গে কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু স্টুডিওটি তাকে জানায় আমেরিকানরা কোনো এশীয়কে মুখ্য চরিত্রে দেখতে প্রস্তুত নয়। এক বছর পর ওয়ার্নার ব্রস কুং ফু সিরিজ মুক্তি দেয়, যেখানে মার্শাল আর্টে দক্ষ একজন শাওলিন সন্ন্যাসী বুনো পশ্চিমে সফর করছেন। শাওলিন সন্ন্যাসীর চরিত্রটি করেছিলেন শ্বেতাঙ্গ অভিনেতা ডেভিড ক্যারাডাইন।
এসব দেখে বিরক্ত ব্রুস লি হলিউড ছেড়ে হংকংয়ে ফিরে আসেন। এরপর তিনি নির্মাণ করেন ফিস্ট অব ফিউরি, ওয়ে অব দ্য ড্রাগন ও এন্টার দ্য ড্রাগন। এ তিনটি ছবি ব্রুস লির কিংবদন্তিকে প্রতিষ্ঠা করে দেয়। এসব ছবিতে তার বিভিন্ন অ্যাকশন দৃশ্যের পোস্টার দুনিয়াজুড়ে কিশোর-তরুণদের কক্ষে শোভা পেতে থাকে। ১৯৭৩ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে হঠাৎ করেই মারা যান ব্রুস লি। এরপর তার জনপ্রিয়তা ও কিংবদন্তি দুটোই বাড়তে থাকে।
শ্যানন লি বলেন, ‘আমরা এসব গল্প শুনে বড় হয়েছি। এ শো আমার বাবার পরিকল্পনায় ছিল, কিন্তু তাকে বলা হয়েছিল তিনি এতে অভিনয় করতে পারবেন না, কারণ আমেরিকান দর্শকরা কোনো চীনাকে মুখ্য চরিত্রে দেখতে পছন্দ করবে না। এখন আপনি যদি ওয়ার্নার ব্রসকে জিজ্ঞাসা করেন, তাহলে নিশ্চিতভাবে তাদের জবাব হবে, তারা আমার বাবার আগেই কুং ফুর ধারণা মাথায় নিয়ে ঘুরছিল...’










