সম্প্রতি কলকাতা ঘুরে গেছেন অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। কেননা মুক্তি পেয়েছে সুমন ঘোষ পরিচালিত সিনেমা ‘পুরাতন’। তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। এ সিনেমার জন্যই শর্মিলা ঠাকুরের কলকাতা ভ্রমণ। স্বল্প সময়ের জন্য হাজিরা দিয়েই যেন আবার ফেরা। কলকাতার বড় পর্দায় দেখানো হলো আবার ‘নায়ক’ ও ‘আরাধনা’। পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘যতই ওটিটিতে সিনেমা দেখার প্রবণতা বাড়ুক, বড় পর্দার ছবি বড় পর্দায়ই দেখা ভালো, যেমন পুরাতন।’

৮০ বছর বয়স হলো শর্মিলা ঠাকুরের। জীবন ও ইন্ডাস্ট্রি তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ভাগ্যবান। মানিকদার (সত্যজিৎ রায়) সিনেমায় অভিনয় করার পর থেকেই সমসাময়িক বাংলা সিনেমার পরিচালকেরা আমায় তাদের সিনেমায় নেয়ার কথা ভাবতে শুরু করেন। খুব একটা কষ্ট করতে হয়নি। সেখান থেকেই অনেকটা দরজা খুলে গিয়েছিল। তারপর মুম্বাইয়ে এসে কাজ করেছি। কিন্তু ব্যক্তিজীবনের ওঠাপড়া, কখনো থেমে যাওয়া, কখনো বা হোঁচট খাওয়া—আমায় জীবনকে বুঝতে শিখিয়েছে। পরিবার-পরিজন, কাজ, সবকিছুকে এক সূত্রে গেঁথে আমি আজও একইভাবে আছি। আমি আনন্দিত।’

পুরাতন নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, ঋতুপর্ণা-প্রসেনজিৎ-শর্মিলার একটি বাংলা ছবি হওয়া উচিত। শর্মিলা ঠাকুর এ নিয়ে বলেন, ‘তত দিন কি আমি থাকব? হয়তো ছবির ফ্রেমে বাঁধা পড়ব! সে ছবি দেখে হয়তো অনেকে বলবেন, ‘উনি থাকলে এ রকমটা হতো!’

পুরাতনের প্রযোজক ও সহ-অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত সঙ্গেই ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এটা কখনো হতে পারে না। আমরা আবার নিশ্চয়ই সিনেমা করব একসঙ্গে। তোমার মুখে এ কথা শুনব না।’

অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও সফল শর্মিলা ঠাকুর। সাইফ আলী খান, সোহা আলী খান তারই সন্তান। এ জানুয়ারিতে সাইফ আলী খানের ওপর একটি হামলা হয়ে গেল। এসব নিয়ে কথা ওঠেনি, কিন্তু জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সাইফের প্রসঙ্গ এসেছিল।

সাইফের ছোটবেলার একটি ঘটনা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘একবার চিকিৎসকের পরামর্শে ছোট্ট সাইফকে এক চামচ ফলের রস খাইয়েছিলাম। ওর শরীর খারাপ হয়ে যায়। মা অবশ্য আমাকে ওই ফলের রসে জল মেশাতে বলেছিল। চিকিৎসককে গুরুত্ব দিতে গিয়ে মায়ের কথা শুনিনি। পরে ঠেকে শিখেছি, মায়ের অভিজ্ঞতা কতটা জরুরি। অভিজ্ঞতারই আরেক নাম জীবন।’

জীবনের নানা ঘটনা থেকে তিনি বারবার শিক্ষা নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, শেখার দরজা যেন কখনো বন্ধ না হয়। তবেই লম্বা দৌড়ের ঘোড়া হওয়া যায়।

সূত্র ও ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস