শুরু হলো কান চলচ্চিত্র উৎসব। এবার কান উৎসবের ৭৮তম আসর। প্রতি বছরই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ও দর্শকের একটা অংশ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে কান উৎসবের। এবারো ব্যতিক্রম ছিল না। তবে এবার কান উৎসব তার নীতিতে বেশকিছু পরিবর্তন এনেছে। এসেছে বেশকিছু নিষেধাজ্ঞা। এর মধ্যেই রবার্ট ডি নিরো করলেন আরেক কাণ্ড। কানের আসরে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন।
সিনেমা রাজনীতির বাইরে না। বহু সময়, বহু সিনেমায় রাজনীতির প্রসঙ্গ এসেছে। আবার রাজনৈতিক কারণে সিনেমা নির্মাণের উদাহরণ যেমন আছে, তেমনি রাজনৈতিক কারণে সিনেমা নিষিদ্ধও হয়েছে। আবার সিনেমার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা রাজনৈতিকভাবে সচেতন হন। তারা চলমান রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে মন্তব্য করে থাকেন। কখনো করেন আন্দোলন। এবার রবার্ট ডি নিরো কান উৎসবের মঞ্চে সরাসরি সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের। সেই সঙ্গে সিনেমার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে বলেছেন।
রবার্ট ডি নিরোকে সাম্মানিক পাম ডি’অর দেয়া হয়েছে। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের জন্য তাকে এ সম্মাননা দেয়া হয়। এরপর নিরো বলেন, ‘আমাদের এখনই সরব হওয়া উচিত। কোনো রকম হিংসামূলক আচরণ নয়। যখন আবার নির্বাচন হবে, ভোটের মাধ্যমে তা করা হবে। আর আজ রাত থেকে আগামী ১১ দিন আমরা এ প্রতিজ্ঞার শক্তি সিনেমার মাধ্যমে দেখিয়ে যাব।’

রবার্ট ডি নিরোর হাতে পুরস্কার তুলে দেয়ার আগে তার সম্পর্কে সূচনা বক্তব্য দেন লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও। তিনি বলেন, ‘যখনই তার বন্ধু, পরিবারের কোনো ব্যক্তি, সিনেমা নির্মাণ এমনকি গণতন্ত্রেরও সাহায্য প্রয়োজন হয়, নিরোকে পাওয়া যায়।’
নিজের স্বাগত বক্তব্যে জুলিয়েট বিনোশও বৈশ্বিক নানা সংকট প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ, দুরবস্থা, দারিদ্র্য, নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে আমরা চলছি। চারপাশে যেন দানবের থাবা। এসব কিছু আমাদের দুর্বল করে দিচ্ছে।’
কিন্তু এসবের জন্য জীবন থেমে থাকে না। কোনো আয়োজনও থেমে থাকে না। হয়তো পিছিয়ে যায় খানিকটা। কান উৎসবও চলছে তার নিয়মে। এবার রবার্ট ডি নিরোকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি নির্মাতা ডেভিড লিঞ্চকে নিয়ে থাকছে বিশেষ আয়োজন। তার মুলহল্যান্ড ড্রাইভ, ওয়াইল্ড অ্যাট হার্ট কান উৎসবে দর্শক পছন্দের তালিকায় ছিল।
তবে এতসবের মধ্যে কানে এবার নতুন নিয়ম করা হয়েছে। লাল গালিচায় কোনো ধরনের নগ্নতা অননুমোদিত করা হয়েছে। এর বেশকিছু কারণ আছে। সম্প্রতি কয়েকজনকে বিভিন্ন উৎসবে প্রায় নগ্ন হয়ে উপস্থিত হতে দেখা গেছে। তা নিয়ে বিতর্কও হয়েছে। তাই প্রায় শেষ মুহূর্তেই নিয়ম জারি করা হয়। এজন্য হ্যালি বেরিকে পোশাক বদল করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি একটা দারুণ পোশাক বাছাই করেছিলাম। কিন্তু দেখা গেল সেটা কানের নতুন নিয়ম ভঙ্গ করছে। আমি নিয়ম ভঙ্গ করতে চাই না। নগ্নতা বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সেটা নিশ্চয় ভালোর জন্যই নেয়া হয়েছে।’
সূত্র: ভ্যারাইটি










