জেমস বন্ডের সিনেমা নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করেছে একটি পরিবার। বন্ড কীভাবে মার্টিনি ধরবেন, তার আগ্নেয়াস্ত্র, গাড়ি নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতেন তারা। কিন্তু বৃহস্পতিবারের এক চুক্তি এ বিষয়গুলো বদলে দিয়েছে। আগে বন্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেন বারবারা ব্রকলি ও মাইকেল জি উইলসন। এবার তারা একটি চুক্তি করেছেন অ্যামাজন এমজিএমের সঙ্গে। এ চুক্তি অনুসারে, অ্যামাজন এমজিএম এখন থেকে বন্ডের সৃজনশীল ও শৈল্পিক বিষয়গুলো দেখবে। বিষয়টি বন্ডের ভক্ত ও সিনেমা দুনিয়ার অনেককেই অবাক করেছে, কেননা ব্রকলি পরিবার অনেকটাই ইয়ান ফ্লেমিংয়ের প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছিল। বন্ডের সঙ্গে তাদের নাম জুড়ে গিয়েছিল।

কিন্তু এদিকে বন্ডের নতুন সিনেমা নিয়ে কোনো খবর নেই। সর্বশেষ বন্ড হিসেবে দেখা গিয়েছিল ড্যানিয়েল ক্রেগকে। ২০২১ সালে মুক্তি পায় ‘নো টাইম টু ডাই’। বন্ডের পাঁচটি সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। এরপর দীর্ঘ বিরতিই কেবল নয়, বন্ড নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো কথাও শোনা যাচ্ছে না। মূল কারণের একটি হলো বন্ডের নতুন অভিনেতা কে হবেন, তা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। মাঝে হেনরি ক্যাভিল এমনকি ইদরিস এলবার নামও এসেছিল। কিন্তু তারা কেউ বন্ড হচ্ছেন না, এখন এমনটাই মনে হয়। কেননা নতুন সিনেমার জন্য কোনো চিত্রনাট্য নেই, পরিচালকও নেই। অভিনেতা তো নেই-ই। এর মধ্যে নতুন এক চুক্তি এসে বিষয়গুলো আরো জটিল করবে।

চার বছর আগে এমজিএমকে আংশিক কিনে নিয়েছিল অ্যামাজন। এরপর জেমস বন্ডের কোনো সিনেমা না আসায় অ্যামাজন বিষয়টা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিল। এর অন্যতম কারণ ক্রিয়েটিভ ডিসিশন নেয়ার ক্ষেত্রে তাদের হাতে ক্ষমতা ছিল না। আংশিকভাবে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারত। এবার সেই সংকট কেটে যাচ্ছে।

তবে এ নতুন চুক্তির মাধ্যমে অ্যামাজন ও ব্রকলি পরিবার উভয়ই লাভবান হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কেননা এর মধ্য দিয়ে ব্রকলিদের হাতে বন্ডের মালিকানা থাকছে। কিন্তু এবার সিনেমার কাস্টিং, পরিকল্পনা, পরিবেশনা ও বিপণন দেখবে অ্যামাজন। তারা অবশ্যই নতুন কিছু নিয়ে আসবে। বন্ডের স্তিমিত গতি আবারো বাড়বে এর মাধ্যমে।

সূত্র: ভ্যারাইটি