চারদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়জয়কার। সমালোচনাও আছে। এর মধ্যেই নতুন সমালোচনা তৈরি হলো হলিউডে। টিলি নরউড এআই নির্মিত এক চরিত্র আনা হয়েছে। এ ‘অভিনেত্রী’কে পুরোপুরিই এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এলিন ভ্যান ডার ভালদেন নামে একটি এআই স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান থেকে পার্টিকেল সিক্স প্রজেক্টের প্রতিষ্ঠাতা চরিত্রটি তৈরি করেছেন। গণমাধ্যম বলছে, টিলির চেহারা ও আচরণ একজন সাধারণ জেন-জি ইনফ্লুয়েন্সারের মতো এবং ইনস্টাগ্রামে অভিনয়সংক্রান্ত পোস্টও সে করে। তবে সে বাস্তব কোনো মানুষ নয়।
সম্প্রতি টিলি একটি পোস্টে দাবি করে, সে ২০ সেকেন্ড দানবের সঙ্গে লড়েছে, বিস্ফোরণ থেকে পালিয়েছে, গাড়ি বিক্রি করেছে এবং প্রায় অস্কার জিতেছে। এই পোস্টের পরই গণমাধ্যম ডেডলাইন জানায়, কিছু ট্যালেন্ট এজেন্সি টিলিকে সাইন করাতে চায় এবং কিছু স্টুডিও গোপনে এআই কনটেন্ট গ্রহণ করছে। এতে হলিউডের অনেক তারকা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।
সোফি টার্নার বলেন, ‘বাহ! দারুণ। কিন্তু আপনাদের ধন্যবাদ দিতে পারছি না।’ ভ্যান ডার ভালদেন বলেন, ‘টিলি কোনো মানুষের বিকল্প নয়, বরং এটি একটি “সৃজনশীল কাজ”, যেমন অ্যানিমেশন বা সিজিআই (কম্পিউটার জেনারেটেড ইমেজ)। এআই চরিত্রগুলোকে মানুষের সঙ্গে তুলনা না করে একটি আলাদা ঘরানার শিল্প হিসেবে বিচার করা উচিত।’ কিন্তু এ যুক্তির সঙ্গে অনেক শিল্পী একমত নন। তাদের মতে, টিলির মতো এআই চরিত্র তৈরি হয়েছে মানুষের কাজ চুরি করে। মারা উইলসন মন্তব্য করেন, ‘তুমি এটি তৈরি করোনি, শত শত বাস্তব কর্মীর কাজ ব্যবহার করে এটি বানানো হয়েছে।’
এ বিতর্ক ২০২৩ সালের লেখক ও অভিনেতাদের ধর্মঘটের একটি মূল কারণ ছিল। এআই যেন অনুমতি বা পারিশ্রমিক ছাড়া শিল্পীদের কাজ ব্যবহার না করে সে লক্ষ্যে কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা আনা হলেও তা সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এদিকে ডিজনি, ইউনিভার্সাল ও ওয়ার্নার ব্রোস এআই কোম্পানি মিডজার্নির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযোগ হলো, মিডজার্নি তাদের চরিত্রগুলোর অবৈধ কপি তৈরির চেষ্টা করেছে।
অন্যদিকে ওপেন এআইয়ের সোরা ভিডিও মডেল নিয়েও বিতর্ক চলছে। সব মিলিয়ে এআই চরিত্রগুলোর আগমন শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যা এখনো পুরোপুরি মীমাংসিত হয়নি।
সূত্র: সিএনএন










