১৭ এপ্রিল প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করা হয়। এটি ২২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এরই মধ্যে শিল্পপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে প্রদর্শনীস্থল হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গ্যেটেইনস্টিটিউট বাংলাদেশের পরিচালক ফ্র্যাঙ্ক ভার্নার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বিশিষ্ট শিল্পী নাজমা আখতার। তাদের উপস্থিতি আয়োজনটিকে আন্তর্জাতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগের দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব এনে দেয়।

শিল্পী আলমগীর কবীরের কিউরেশন ও পরিকল্পনায় আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্ম, অভিজ্ঞতা ও শিল্প পটভূমির শিল্পীরা। মোট ৪০টি শিল্পকর্ম নিয়ে সাজানো এ আয়োজন বাংলাদেশের সমকালীন শিল্পচর্চার এক বহুমাত্রিক চিত্র তুলে ধরছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, অংশগ্রহণকারী অনেক শিল্পীই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে নিজস্ব চর্চার মাধ্যমে শিল্পভাষা গড়ে তুলেছেন।

প্রদর্শনীতে জলরঙ, তেলরঙসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নির্মিত কাজ স্থান পেয়েছে। প্রকৃতি ও নদীনির্ভর দৃশ্য, পদ্মাতীরের জীবন, ঘাটে নোঙর করা নৌকা, নারীর প্রতিকৃতি, প্রাণী জগতের গতিশীলতা, ফুলের নান্দনিক উপস্থাপন এবং বিমূর্ত ও অবয়বধর্মী কাজ— সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে বৈচিত্র্যময় শিল্প অভিজ্ঞতার এক সমাহার।

অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন আলমগীর কবীর, বায়ান শফিক, ফারজানা রহমান, মাহবুবা বেগম, অনিয়া তাহসিন রহমান, রাজিয়া সুলতানা খান, তাহেরা বানু (কেয়া) ও জায়ন শফিক। প্রত্যেকে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও শিল্পভাষার মাধ্যমে প্রদর্শনীতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন।

আয়োজকদের মতে, ডিফরেন্ট স্ট্রোকস শুধু একটি প্রদর্শনী নয়, বরং এটি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্লাটফর্ম, যেখানে শিল্পী ও দর্শকের মধ্যে ভাবনা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। শিল্পপ্রেমী, সংগ্রাহক, শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণীর দর্শকের জন্য প্রদর্শনীটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।