বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তার করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। সেই সঙ্গে চলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যথেচ্ছ ব্যবহার। তাই এর বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন হলিউডের শিল্পী, লেখক ও সৃজনশীল পেশার মানুষ। সম্প্রতি স্কারলেট জোহানসন, কেট ব্ল্যানচেট, জোসেফ গর্ডন-লেভিসহ ৭০০-এর বেশি শিল্পী ও নির্মাতা একত্র হয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিরুদ্ধে একটি নতুন প্রচারাভিযান শুরু করেছেন। তাদের মূল অভিযোগ, প্রযুক্তি সংস্থাগুলো অনুমতি বা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই কপিরাইটযুক্ত সৃষ্টিকর্মকে ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কনটেন্ট তৈরি করছে, যা চৌর্যবৃত্তির শামিল।
এ যৌথ বিবৃতিতে শিল্পীরা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘আমাদের কাজ চুরি করাকে কোনোভাবেই উদ্ভাবন বলা চলে না। এটা অগ্রগতি নয়। এটা স্রেফ চুরি।’
তাদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের নামে যেভাবে সিনেমা, গান, লেখা, অভিনয়, কণ্ঠস্বর ও শিল্পকর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কেবল শিল্পীদের ব্যক্তিগতভাবেই ক্ষতি করছে না, বরং গোটা মার্কিন সৃজনশীল শিল্পকেই হুমকির মুখে ফেলছে।
চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, সংগীত, প্রকাশনা ও ডিজিটাল মিডিয়া এ বিশাল সৃজনশীল ক্ষেত্র লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করে, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ঘটায় এবং বিশ্বজুড়ে আমেরিকার সাংস্কৃতিক প্রভাব ছড়িয়ে দেয়। শিল্পীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এ শক্তিশালী ব্যবস্থা আজ বিপন্ন। কারণ বহু ব্যক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এ কাজগুলো করছে কোনো নীতি ও অনুমতির তোয়াক্কা না করেই।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘আমেরিকার সৃজনশীল সমাজ বিশ্বজুড়ে ঈর্ষণীয়। কিন্তু এ মূল্যবান সম্পদকে সম্মান ও সুরক্ষা দেয়ার বদলে, কিছু বড় প্রযুক্তি সংস্থা, যাদের অনেকেই প্রাইভেট ইকুইটি দ্বারা সমর্থিত, তারা কপিরাইট আইন উপেক্ষা করে শিল্পীদের কাজ দিয়ে এআই প্লাটফর্ম তৈরি করছে।’
স্কারলেট জোহানসন এ লড়াইয়ে বরাবরই অগ্রভাগে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নিজের কণ্ঠস্বর ও চেহারার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তিনি একাধিকবার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি ভাইরাল ভিডিওতে এআই দিয়ে তৈরি তার চেহারা ও কণ্ঠ ব্যবহার করে বিতর্কিত বার্তা ছড়ানোর ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা করেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে তার নাম ও অবয়ব ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন চালানোর অভিযোগে একটি এআই অ্যাপের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নেন। এমনকি ২০২৪ সালের মে মাসে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধেও তিনি সরব হন। কারণ জিপিটি ফরটি চ্যাটবট ‘স্কাই’-এর কণ্ঠস্বর তার অভিনীত Her ছবির চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত বলে অভিযোগ ওঠে।
অন্যদিকে কেট ব্ল্যানচেটও এআই নিয়ে সতর্কতার কথা বলেছেন একাধিকবার। ২০২৪ সালে টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে তিনি মন্তব্য করেন, ‘নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু কল্পনাশক্তি ছাড়া উদ্ভাবন ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।’
সূত্র: ভ্যারাইটি










