হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে বহু নায়িকাই খ্যাতির শিখরে পৌঁছেছেন। তাদের অনেকেই জীবনের শেষ অবধি অভিনয় করেছেন। ষাটের দশকে অভিনয় শুরু করা অনেক নায়িকা আজও অভিনয় করছেন। আবার অনেকে হারিয়েও গেছেন। কেউ নিজের জীবনের বিশৃঙ্খলার কারণে বা কাউকে মৃত্যু এসে ছিনিয়ে নিয়েছে আর কেউ স্বেচ্ছায় ছেড়েছেন ইন্ডাস্ট্রি। ক্যারিয়ারের শুরুতেই সুপারস্টার বনে যাওয়া সুরাইয়াও ক্যারিয়ার ছেড়েছিলেন মাঝপথে। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তিনি সিনেমা থেকে বিদায় নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ঘটেছিল নানা ঘটনা। এমনকি দেব আনন্দের দেয়া বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। অথচ ক্যারিয়ারের সেরা সময় তিনি দেব আনন্দ, দিলীপ কুমার ও অশোক কুমারের মতো তারকাদের চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পেতেন।

সুরাইয়ার জন্ম ১৯২৯ সালে। ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৩৮ সালে দাদা গুঞ্জলের ‘মাদার ইন্ডিয়া’ দিয়ে। চল্লিশের দশকে তিনি নাম করেছিলেন। ‘ওমর খৈয়াম’ (১৯৪৬), ‘পেয়ার কি জিত’ (১৯৪৮), বাড়ি বেহেন (১৯৪৯) ও দিল্লাগী (১৯৪৯) সিনেমাগুলো তাকে তারকাখ্যাতি দিয়েছিল। তবে ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি অভিনয়ের আগে গানের জন্য পরিচিতি পান। সংগীত পরিচালক নওশাদ তার কণ্ঠ শুনে সংগীতশিল্পী হিসেবে তাকে প্লেব্যাকের প্রস্তাব দেন। এরপর তিনি গাইতে শুরু করেন। সে সূত্রে সিনেমার সেটে নিয়মিত আনাগোনা ছিল তার। এরপর এক সময় অভিনয়ে আসেন।

8

সুরাইয়া তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুসময়ে দেব আনন্দের প্রেমে পড়েন। দেব আনন্দের সঙ্গে সাতটি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন সুরাইয়া। মজার বিষয় ওই সময় তিনি দেব আনন্দের চেয়ে বড় তারকা ছিলেন। দেব আনন্দ তার কাছ থেকে টাকা ধার করে তাকে হীরার আংটি কিনে দিয়েছিলেন। বিয়ে তাদের হয়েই যেত, কিন্তু সেখানে বাধ সাধেন সুরাইয়ার নানি। সুরাইয়া মুসলিম। একজন হিন্দুর সঙ্গে নাতির বিয়ে তিনি মানতে রাজি ছিলেন না।

নায়িকাদের জীবনের সঙ্গে তাদের কোনো জ্যেষ্ঠ নারী আত্মীয় জড়িত থাকেন। কারো মা, কারো খালা বা অন্য কেউ। সুরাইয়ার ক্ষেত্রে এ কাজ করতেন তার নানি। সুরাইয়া ও তার কাজের নানা সিদ্ধান্ত আসত এ নারীর কাছ থেকে। তিনি হীরের আংটি সমুদ্রে ফেলে দেন। এছাড়া তিনি সুরাইয়ার সিনেমার পরিচালকদেরও নিদের্শনা দিয়েছিলেন যেন তারা দেব আনন্দের সঙ্গে সুরাইয়ার রোমান্টিক দৃশ্য কেটে বাদ দেন।

দেব আনন্দ অভিনয় ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন সুরাইয়ার জন্য। কিন্তু সুরাইয়া তা মানতে নারাজ ছিলেন। ফলে তারা ছাড়াছাড়ির সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সুরাইয়া আর কখনো বিয়ে করেননি। তবে ১৯৫৪ সালে কল্পনা কার্তিককে বিয়ে করেন দেব আনন্দ। স্টারডাস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সুরাইয়া জানিয়েছিলেন, দেব আনন্দ প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিলেন। সুরাইয়াকে ‘ভীতু’ বলেছিলেন তিনি। সুরাইয়া বলেন, ‘হয়তো আসলেই ভীতু ছিলাম। এক পা এগোলে সম্পর্কটা রাখতে পারতাম। হয়তো এটা আমারই দুর্বলতা অথবা নিয়তি।’

সুরাইয়ার ক্যারিয়ার এরপর আর এগোয়নি। পঞ্চাশের দশকে কেবল একটি সিনেমা হিট করেছিল। কিন্তু ওখানেই শেষ। এরপর আর কোনো সিনেমায় সাফল্য পাননি। ১৯৬৩ সালে স্বেচ্ছায় অবসর নেন সুরাইয়া। প্লেব্যাকেও ফেরেননি। ২০০৪ সালে বার্ধক্যজনিত অসুখে মারা যান এ অভিনেত্রী।

[তথ্যসূত্র: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুস্তান টাইমসের একাধিক নিবন্ধ]